আইন কর্মকর্তা নিয়োগে ত্যাগীদের মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি


রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন তিনি।

খোলা চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এবং অধস্তন আদালতগুলোতে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও গোষ্ঠীপ্রীতি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি), সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নিয়োগে যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের অবদান নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে আইনজীবী সমাজের একটি অংশের মধ্যে বিদ্যমান অভিযোগ ও হতাশার কথা তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী আইনজীবী নেতাদের জুনিয়র, চেম্বার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনেরা নিয়োগে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে অনেক আইনজীবী রাজনৈতিক মামলা, হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েও বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিনা স্বার্থে কিংবা সীমিত সামর্থ্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

এমন আইনজীবীও রয়েছেন, যাঁরা নিজেরা নিপীড়ন, হয়রানি এমনকি স্বল্প সময়ের জন্য গুমের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও তাঁরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আদালতে লড়েছেন এবং কঠিন সময়ে পেশাগত দায়িত্ব ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা পালন করেছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, কোনো প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর আস্থাভাজন কিংবা নির্দিষ্ট চেম্বারের সদস্য না হওয়ায় এসব আইনজীবীর অনেকে যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বলে আইনজীবী সমাজের একটি অংশের মধ্যে হতাশা রয়েছে।

আরও পড়ুন : পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনু প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে ব্যক্তিগত প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি, চেম্বারকেন্দ্রিক প্রাধান্য কিংবা অস্বচ্ছ সুপারিশের সুযোগ থাকবে না।

তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এবং অধস্তন আদালতগুলোতে পিপি-এপিপি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, যোগ্যতাভিত্তিক ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণের অনুরোধ জানান।

বিশেষ করে, দুঃসময়ে মামলা-হামলা, নিপীড়ন ও ঝুঁকি উপেক্ষা করে দল, গণতন্ত্র এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে থাকা ত্যাগী, পরীক্ষিত, সৎ ও দক্ষ আইনজীবীদের অবদান যথাযথভাবে যাচাই ও মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও তদারকিতে স্বজনপ্রীতি ও গোষ্ঠীপ্রীতিমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা গড়ে উঠলে ত্যাগী আইনজীবীদের মধ্যে আস্থা ফিরবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, মর্যাদাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

চিঠির শেষে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর নির্দেশনা কামনা করেন অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *