ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে পৃথক আদালত প্রতিষ্ঠার দাবিতে আইনি নোটিশ


ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ—দুই পৃথক বিচারিক অঞ্চলে বিভক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, আইনগত ও বিচারিক পদক্ষেপ নিতে আইনমন্ত্রী, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাঠানো ওই আইনি নোটিশে ঢাকা উত্তর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা উত্তর মহানগর দায়রা আদালত এবং একইভাবে ঢাকা দক্ষিণ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর দায়রা আদালত প্রতিষ্ঠা বা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ঢাকার বিপুল জনসংখ্যা, বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা এবং ক্রমবর্ধমান দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক, বিশেষ ও মহানগর ফৌজদারি মামলার চাপ বিবেচনায় বর্তমান বিচারিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।

নোটিশে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান উল্লেখ করেন, বিদ্যমান বিচারিক ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক মামলা, বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, সাক্ষী, আসামি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সমাগমের কারণে বিচারিক প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীদের জন্য আদালতে যাতায়াত, মামলার ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বর্তমানে সদরঘাট এলাকায় অবস্থিত আদালতে আসতে বিচারপ্রার্থীদের যানজট, দূরত্ব ও পরিবহনসংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে ধামরাই ও সাভার উপজেলা থেকে সদরঘাটে এসে বিচারিক সেবা নেওয়া যেমন সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর, তেমনি উত্তরা পশ্চিম, উত্তরা পূর্ব, তুরাগ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার বিচারপ্রার্থীদেরও একই ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি এবং কার্যকর বিচারিক প্রশাসনের স্বার্থে ঢাকার জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও মামলার পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিচারিক কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ জন্য ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে দুটি পৃথক বিচারিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : আইনজীবী নিয়োগ না করে নিজেই আত্মপক্ষ সমর্থন করতে চান শামসুল হক টুকু

প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, ভৌগোলিক সীমানা, বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ও ধরন, পুলিশের এখতিয়ার, আদালতের অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিচারক ও আইনজীবীদের কাজের চাপ এবং বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার বিষয়গুলো বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নোটিশে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই বিভাজনের উদ্দেশ্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বা আইনে নির্ধারিত কোনো আদালতের এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করা নয়; বরং বিচারিক প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানো, অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানো এবং আদালতে মানুষের প্রবেশাধিকার সহজ করা।

নোটিশে আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঢাকার বিদ্যমান বিচারিক কাঠামো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য উপযুক্ত বিচারিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ করে পৃথক ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ জেলা ও দায়রা আদালত এবং মহানগর দায়রা আদালত প্রতিষ্ঠা বা পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের জন্য পৃথক ভৌগোলিক ও পুলিশের এখতিয়ার নির্ধারণ, পর্যাপ্ত বিচারিক কর্মকর্তা, আদালতকক্ষ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অবকাঠামো নিশ্চিত করার কথাও নোটিশে বলা হয়েছে।

আইনি নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান আইনের অধীনে উপযুক্ত ফোরামে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করে প্রয়োজনীয় প্রতিকার, আদেশ ও খরচ আদায়ের আবেদন করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখেও একই দাবিতে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন সালাহ উদ্দিন রিগ্যান। ওই আবেদনে তিনি ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতকে উত্তর ও দক্ষিণ—দুই ভাগে বিভক্ত করার অনুরোধ জানান। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আজ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *