সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ হাইকোর্টের


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলায় আসামি করা ছাড়া নতুন করে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং কোনো ধরনের আইনি হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আজ রবিবার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট মোনায়েম নবী শাহীন জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন, যার ওপর আজ চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

হাইকোর্টে আজ রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা, মুস্তাফিজুর রহমান এবং রিটকারী আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন।

শুনানিতে আইনজীবীরা যুক্তি দেখান যে, প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) নাম না থাকা সত্ত্বেও সাবেক প্রধান বিচারপতিকে একের পর এক মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ন্যায়বিচার পরিপন্থী।

আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আইনজীবীদের যুক্তি আমলে নিয়ে এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ও রুল জারি করেন।

আরও পড়ুনসিসা লাউঞ্জ ইস্যুতে হাইকোর্টে ডিএমপি কমিশনারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের আবেদন

এর আগে, গত ১২ মে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি পৃথক হত্যার ঘটনায় (যাত্রাবাড়ী থানার আরিফ হত্যা এবং আদাবর থানার রুবেল হত্যা মামলা) দায়ের করা মামলায় বিচারপতি খায়রুল হক হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন।

ওই আদেশের পর তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মোট সাতটি মামলার সবকটিতেই জামিন নিশ্চিত হওয়ায় আপাতত তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

তবে এই আদেশের পরপরই রাষ্ট্রপক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে গত বুধবার (১৩ মে) আপিল বিভাগে আবেদন দাখিল করে।

তদন্ত ও আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুরুতে তাঁকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে, গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট জামিনের বিষয়ে রুল মঞ্জুর করে চারটি মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন। এরপর ১১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায়ও তিনি জামিন লাভ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনগুলো স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলেও গত ২৮ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা মোট ৫টি মামলায় বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন।

কিন্তু আপিল বিভাগে জামিন বহাল থাকার পরপরই নাটকীয়ভাবে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার আরও দুটি হত্যা মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি পুনরায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং গত ১২ মে জামিন পান। বারবার নতুন মামলায় জড়িয়ে কারামুক্তি দীর্ঘায়িত করার এই প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটেই আজ হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাঁকে আর গ্রেপ্তার না দেখানোর এই ঐতিহাসিক নির্দেশ দিলেন।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *