অনুপস্থিত ও সাদা খাতা জমা দিয়ে রিভিউ আবেদন: বার কাউন্সিল পরীক্ষায় দুই শিক্ষার্থী আজীবন নিষিদ্ধ


অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) লিখিত পরীক্ষায় সম্পূর্ণ সাদা খাতা জমা দেওয়া এবং অনুপস্থিত থেকেও ফলাফলের রিভিউ দাবি করার মতো চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয়ের অভিযোগে দুই শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে বার কাউন্সিলের ভবিষ্যতের সব ধরনের পরীক্ষা থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে (স্মারক নং-বিবিসি/এনরোল/২০২৬/২৭৯৩) এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট কমিটির গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তি এবং আজীবন নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ জারি করা হলো।

ঘটনার পটভূমি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ

বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, বিগত ২৮ জুন ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষায় মুহাম্মদ সাইফুল আমিন নামীয় এক প্রার্থী সম্পূর্ণ সাদা খাতা জমা প্রদান করেন এবং এম.আর. আকাশ নামীয় অপর প্রার্থী উক্ত পরীক্ষায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে এবং উত্তরপত্রে কিছু না লিখেও উভয়েই সেই পরীক্ষার ফলাফল রিভিউ করার জন্য লিখিত আবেদন জমা দেন।

বিষয়টি সামনে এলে এনরোলমেন্ট কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে দুই প্রার্থীর কাছেই লিখিত কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ পাঠানো হয়। প্রার্থীরা নোটিশের জবাব দাখিল করলেও, এনরোলমেন্ট কমিটির ১৩ আগস্টের সভায় সে জবাবগুলো পর্যালোচনা করে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, বাস্তবতা বিবর্জিত ও খামখেয়ালীপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

কমিটির সিদ্ধান্ত ও কঠোর পর্যবেক্ষণ

এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যরা বিজ্ঞপ্তিতে অভিমত ব্যক্ত করে জানান, পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও এবং সম্পূর্ণ সাদা খাতা জমা দিয়েও ফলাফলের রিভিউ দাবি করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা—বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সঙ্গে সচেতনভাবে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়-

এহেন শিক্ষানবিশ প্রার্থীদের আইনজীবী সনদ প্রাপ্তির কোনো নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না এবং আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হলে তারা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আইনি সেবা পাওয়ার অধিকারকে বিনষ্ট করে আইন অঙ্গনকে কলুষিত করার প্রয়াস রাখবে। আইন পেশার উচ্চ মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে এহেন প্রতারক পরীক্ষার্থীদের অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির পরীক্ষা থেকে স্থায়ীভাবে বারিত করে ভবিষ্যতে যেকোনো প্রার্থীকে এরূপ ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করতে কঠোর বার্তা প্রেরণ করা সমীচীন।

আজীবন নিষিদ্ধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন-

১. মুহাম্মদ সাইফুল আমিন (রোল নং- ২৬৯৩৭/সাল ২০২৫, রেজিস্ট্রেশন নং- 202256894), পিতা: মুহাম্মদ রুহুল আমিন, সাং: শমসেরাবাদ, থানা: লক্ষ্মীপুর সদর, জেলা: লক্ষ্মীপুর।

২. এম.আর. আকাশ (রোল নং- ৮৪২০৫/সাল ২০২৫, রেজিস্ট্রেশন নং- 202108348), পিতা: মোঃ সাইদুল ইসলাম, সাং: হোসেনপুর নর্থ, থানা: সিরাজগঞ্জ সদর, জেলা: সিরাজগঞ্জ।

আইন পেশার ভাবমূর্তি ও মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখতেই এনরোলমেন্ট কমিটি সর্বসম্মতভাবে এই চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরাসহ সকল জরুরি মহলে প্রেরণ করা হয়েছে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *