জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বিচারবিভাগ-সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশে সংসদীয় সুপারিশে ব্লাস্টের গভীর উদ্বেগ


জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বিচারবিভাগ-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সাম্প্রতিক সুপারিশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)

সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ বিল আকারে সংসদে না উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচারবিভাগ-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দুটি অধ্যাদেশ, যথা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ রহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ব্লাস্ট এই সুপারিশে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে জোরালোভাবে দাবি করেছে, উল্লিখিত অধ্যাদেশসমূহ হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও সংশোধন শেষে দ্রুত আইনে পরিণত করতে হবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্লাস্ট জানায়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ যাচাই-বাছাইয়ের অজুহাতে সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে এসব অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন : সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক, ডিবি হেফাজতে

একই সঙ্গে বিচারবিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং এর সংশোধনী অধ্যাদেশ রহিত করার প্রস্তাবও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

ব্লাস্টের মতে, এসব অধ্যাদেশ দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা জোরদার এবং বিচারবিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এসব অধ্যাদেশকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আইনে পরিণত করা জরুরি।

সংগঠনটি জাতীয় সংসদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য অধিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশসমূহ দ্রুত সংসদে উত্থাপন করে সংশোধনের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে হবে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সচিবালয়-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসমূহ রহিত না করে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনার মাধ্যমে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইনগত কাঠামো চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং Code of Criminal Procedure (Second Amendment) Ordinance, 2025 সংশোধিত আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

ব্লাস্ট আশা প্রকাশ করেছে, এই দুই অধ্যাদেশ সংশোধনের ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ, অধিকারকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *