স্বামীর করা যৌতুক মামলায় স্ত্রী কারাগারে


যৌতুক নিরোধ আইনে স্বামীর করা মামলায় এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে হাজির হয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ওই নারী জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনার পর আসামি তানিয়া খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক সুবির কুমার কর্মকার। তানিয়ার বিরুদ্ধে মানবভ্রুণ নষ্ট ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও দুটি মামলা রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আদালতের তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন। এরপর বাদী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসার উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ায় আদালত আসামির জামিন নামঞ্জুর করেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের তানিয়া খাতুনের (২২) পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। তানিয়া পেশায় নার্স। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি কর্মরত।

আরও পড়ুন : ৯৯৯ সেবায় বিলম্ব ও ‘জিরো এফআইআর’ বাস্তবায়নে ব্যর্থতায় হাইকোর্টের রুল জারি

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর তানিয়া তাঁর স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা না দিলে সংসার করবেন না বলে জানান। একপর্যায়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তানিয়া। পরে পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তানিয়া খাতুন যৌতুকের টাকা ছাড়া স্বামীর সংসারে ফিরতে রাজি হননি।

এ ঘটনায় মো. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে মামলা করেন। ওই ধারায় বলা হয়েছে, যদি বিয়ের কোনো এক পক্ষ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য পক্ষের কাছে কোনো যৌতুক দাবি করলে তা এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ জন্য অভিযুক্ত অনধিক ৫ বছর, অন্যূন ১ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাঁকে (তানিয়া খাতুন) নিয়ে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাঁর যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের ওপর তাঁর (সাখাওয়াত হোসেন) পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’

তানিয়া খাতুনের মা ফাতেমা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর মেয়ে তানিয়া ও সাখাওয়াত হোসেনের বিয়ের বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। পরে তাঁরা জানতে পারলে এ বিয়ে মেনে নেন। তবে অর্থ আত্মসাৎ বা টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *