সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক


সবগুলো মামলায় আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার) থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতির কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু গণমাধ্যমকে জানান, ‘বুধবার বিকেলে তাঁকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারামুক্তির পর তিনি সরাসরি নিজ বাসায় পৌছেছেন এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন।’

এর আগে গত ১৭ আগস্ট সাবেক বিচারপতির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সর্বশেষ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। চেম্বার আদালতের উক্ত আদেশের পরেই তাঁর কারামুক্তির আইনি বাধা দূর হয় বলে সেদিনই জানান তাঁর প্যানেল আইনজীবী।

এর আগে গত ১০ আগস্ট রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

আরও পড়ুন : সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া ও সহযোগী গ্রেপ্তার

নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় সাবেক এই প্রধান বিচারপতির জামিন আদেশ বহাল রেখেছিলেন চেম্বার আদালত। কিন্তু পরবর্তীতে বনানী থানার মামলায় তাঁকে নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট (Show Arrest) দেখানো হয়। তারও আগে ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানার ওই হত্যা মামলায় হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন জানিয়েছিল।

চলতি বছরের ২৩ মে পৃথক সাতটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরপরই সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী–সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন খোয়াইব নামে এক যুবক। আন্দোলন চলাকালে অতর্কিত গুলিবর্ষণে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। উক্ত ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর একে একে তাকে মোট ৯টি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সবকটি মামলায় জামিন পেয়ে অবশেষে কারামুক্ত হলেন তিনি।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *