মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে জাতীয় পাঠ্যতালিকা ও লাইব্রেরি জরুরি


অ্যাডভোকেট মীর হালিম : বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা নিজেদের ‘সংস্কৃতিমনা’ দাবি করতে ভালোবাসি। ড্রয়িংরুমে দামী কাঠের শেলফে সাজানো ধ্রুপদী সাহিত্যের সারি আমাদের আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, সেই বইগুলোর অধিকাংশের ভাঁজ কখনো খোলা হয় না। বই সেখানে কেবল গৃহসজ্জার উপকরণ, জ্ঞানের আধার নয়। প্রমথ চৌধুরী লিখেছিলেন, ‘সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।’ আর এই স্বশিক্ষার প্রধান মাধ্যম হলো বই।

অথচ আজ আমরা এক ‘অন্তঃসারশূন্য ভদ্রতা’র যুগে বাস করছি, যেখানে তথ্যের মহাসড়কে আমরা ভাসছি ঠিকই, কিন্তু জ্ঞানের গভীরে আমাদের প্রবেশাধিকার সীমিত। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের মধ্যকার বৈঠক এবং শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ার নির্দেশনা আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।

অতীতের স্মৃতি ও বর্তমানের শূন্যতা

এক সময় বাংলার গ্রামগঞ্জে সন্ধ্যার আড্ডায় কিংবা সাধারণ পাঠাগারগুলোতে বইয়ের আলোচনা হতো। কিশোররা সেবা প্রকাশনী বা গোয়েন্দা গল্পের জন্য উদগ্রীব থাকতো। কিন্তু প্রযুক্তির আগ্রাসন ও বিজাতীয় সংস্কৃতির জোয়ারে সেই পাঠাগারগুলো আজ ধুলোয় ধূসরিত। বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ায় আমরা আজ ‘পাঠাগার ও পাঠক’ শূন্য এক জাতিতে পরিণত হয়েছি। বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় আমাদের নাম না থাকা কিংবা উদ্ভাবন ও গবেষণায় আমাদের পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ, আমাদের পাঠবিমুখতা।

আমরা বই কিনে দেউলিয়া হওয়ার ভয় পাই, অথচ দামী স্মার্টফোন বা বিলাসিতায় অর্থ খরচ করতে দ্বিধা করি না। সৈয়দ মুজতবা আলীর সেই শ্লেষাত্মক উক্তি আজো প্রাসঙ্গিক, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, বরং জ্ঞানের অভাবে জাতি হিসেবে আমরা দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছি।

বিশ্ব প্রেক্ষাপট: বই যেখানে উন্নয়নের চাবিকাঠি

বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, যারা জ্ঞানকে ধারণ করেছে, তারাই পৃথিবীকে শাসন করছে। আইসল্যান্ডের কথাই ধরা যাক, যেখানে প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে একজন বই লেখেন এবং দেশটি পৃথিবীর অন্যতম শিক্ষিত ও উন্নত জাতি। আমেরিকা, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স বা জাপানের উন্নতির মূলে রয়েছে তাদের পাঠাভ্যাস। জাপানিরা গণপরিবহনে চলাচলের সময়ও বই পড়ে, যা তাদের ডিসিপ্লিন ও ইনোভেশনের অন্যতম উৎস।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে পাঠাগার হলো সামাজিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে, আমরা এখনো নীলক্ষেতের পাইরেটেড কপি কিংবা সস্তা নোট বইয়ের গোলকধাঁধায় আটকে আছি। উচ্চশিক্ষার জন্য দামী বিদেশি বইয়ের সস্তা ফটোকপি আমাদের সাময়িক অভাব মেটালেও মৌলিক গবেষণার পথ প্রশস্ত করছে না।

“স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পার হলেও আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো আদর্শ ‘জাতীয় পাঠ্যতালিকা’ নেই। মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে কেবল আহ্বান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন উপজেলা পর্যায়ে পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন এবং বয়সভেদে সৃজনশীল বইয়ের একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন।”

ভবিষ্যৎ করণীয়: পাঠা অভ্যাসের জন্য জাতীয় গাইডলাইনের প্রয়োজনীয়তা

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে সফল করতে হলে কেবল বই পড়ার আহ্বান জানানই যথেষ্ট নয়, বরং একটি কাল পাত্র ভেদে প্রযোজ্য একটি ‘জাতীয় পাঠ্যতালিকা’ প্রণয়ন জরুরি। স্বাধীনতার অর্ধ-শতাব্দী পার হলেও আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বয়স ও শ্রেণীভিত্তিক কোনো আদর্শ সৃজনশীল পাঠ্যতালিকা নেই। এই শূন্যতা পূরণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, গণ-গ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তারা চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির লাইব্রেরী সাইন্স ডিপার্টমেন্টের সহায়তা নিতে পারে। আমার প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী নিচের স্তরগুলোতে আদর্শ বইয়ের তালিকা থাকা প্রয়োজন:

১. প্রাথমিক স্তর: কল্পনার ডানা ও নৈতিকতার ভিত্তি

এই বয়সে শিশুরা জগতকে বিস্ময় নিয়ে দেখে। পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিশুর কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটানো এবং অবচেতন মনে নৈতিকতার বীজ বপন করা।

বইয়ের ধরণ: সচিত্র রূপকথা, ঈশপের গল্প, ঠাকুরমার ঝুলি, পঞ্চতন্ত্র, এবং ছোটদের সায়েন্স ফিকশন।

ভবিষ্যৎ প্রভাব: রূপকথা বা কল্পকাহিনী পাঠ করলে শিশুর সৃজনশীলতা বাড়ে। নৈতিকতার গল্পগুলো তাকে সৎ ও সহমর্মী নাগরিক হতে শেখায়। ছোটবেলায় পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে ভবিষ্যতে সে দ্রুত নতুন তথ্য শেখার সক্ষমতা অর্জন করে।

২. মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্তর: রোমাঞ্চ, বিশ্লেষণ ও দেশপ্রেম

কৈশোর ও প্রথম যৌবনের এই সন্ধিক্ষণে পাঠকরা রোমাঞ্চ ও রহস্য পছন্দ করে। পাশাপাশি এই স্তরেই তাকে জাতীয় ইতিহাস ও সামাজিক মূল্যবোধের সাথে পরিচিত করা জরুরি।

বইয়ের ধরণ: ক্লাসিক গোয়েন্দা কাহিনী (ফেলুদা, শার্লক হোমস), কিশোর ক্লাসিক (অনুবাদ), মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী এবং জনপ্রিয় বিজ্ঞান।

ভবিষ্যৎ প্রভাব: রহস্য ও গোয়েন্দা কাহিনী পাঠে যৌক্তিক চিন্তার ক্ষমতা জন্মায়। ইতিহাসের পাঠ তাকে শেকড় ও জাতীয়তাবোধের সাথে যুক্ত করে। এই স্তরে পাঠাভ্যাস থাকলে উচ্চশিক্ষায় গবেষণার ধৈর্য তৈরি হয়।

৩. উচ্চ শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তর: দর্শন, রাজনীতি ও বিশ্বচিন্তা

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থী কেবল তার নিজ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হবে না, বরং একজন বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। এখানে জ্ঞান অর্জনের গভীরতা থাকা বাঞ্ছনীয়।

বইয়ের ধরণ: বিশ্ব রাষ্ট্রদর্শন (প্লেটো, ম্যাকিয়াভেলি), জটিল রাজনৈতিক ইতিহাস, ধ্রুপদী বিশ্বসাহিত্য (টলস্টয়, দস্তয়েভস্কি), ভূ-রাজনীতি এবং আধুনিক নীতিনির্ধারণী প্রবন্ধ।

ভবিষ্যৎ প্রভাব: রাষ্ট্রদর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ তাকে একজন সচেতন নাগরিক ও নেতা হিসেবে গড়ে তোলে। বিশ্বসাহিত্যের গভীর পাঠ মানুষের আবেগ ও মানবিক মনস্তত্ত্ব বুঝতে সাহায্য করে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো পেশায় নেতৃত্ব দিতে সহায়ক হয়।

৪. পেশাগত ও কর্মজীবন: দক্ষতা, নেতৃত্ব ও কৌশল

কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর পাঠ্যতালিকা হওয়া উচিত প্রায়োগিক। এখানে মানুষ নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসিক চাপের মধ্যেও ভারসাম্য বজায় রাখার উপায় খোঁজে।

বইয়ের ধরণ: লিডারশিপ ও ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বই, মোটিভেশনাল ও আত্মোন্নয়নমূলক বই, সফল উদ্যোক্তাদের জীবনী এবং আধুনিক প্রযুক্তিরপ্রভাব বিষয়ক বই।

ভবিষ্যৎ প্রভাব: নেতৃত্বের বইগুলো তাকে কর্মক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহসী করে। সফলদের জীবনী থেকে সে ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা পায়। এটি তার পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে।

৫. প্রবীণ ও অবসর জীবন: আধ্যাত্মিকতা, স্বাস্থ্য ও আত্মস্মৃতি

অবসর জীবনে মানুষ ধীরস্থিরভাবে জীবনের অর্থ খুঁজতে চায়। এই সময়ে মানসিক প্রশান্তি এবং শারীরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাই পাঠের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

বইয়ের ধরণ: ধর্মতত্ত্ব ও আধ্যাত্মিক দর্শন, যোগব্যায়াম ও বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা, আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথা এবং হালকা মেজাজের রম্য রচনা।

ভবিষ্যৎ প্রভাব: আধ্যাত্মিক বই মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং মৃত্যুচিন্তা বা একাকীত্বের বিষণ্ণতা দূর করে। স্বাস্থ্যবিষয়ক বই সচেতনতা বাড়িয়ে দীর্ঘায়ু লাভে সহায়তা করে।

৬. প্রাতিষ্ঠানিক ও পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ মানদণ্ড

প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক লাইব্রেরি এবং ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ের পাবলিক লাইব্রেরিতে একটি ‘আদর্শ বইয়ের নমুনা তালিকা’ থাকা আবশ্যক। এই তালিকা সাধারণ পাঠকদের জন্য একটি গাইড হিসেবে কাজ করবে।

সংগ্রহ নীতি: লাইব্রেরিগুলোতে যেন কেবল একই মতাদর্শের বই না থাকে। সেখানে বিজ্ঞান থেকে ধর্ম, এবং ধ্রুপদী থেকে আধুনিক, ফিকশন নন-ফিকশন, সব ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ সংগ্রহ থাকতে হবে।

আপডেট প্রক্রিয়া: প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতি ৫ বা ১০ বছর অন্তর এই তালিকা আপডেট করা জরুরি। নতুন উদ্ভাবন ও বিশ্ব-রাজনীতির মোড় পরিবর্তন অনুযায়ী নতুন বই যোগ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মননশীলতা গঠন এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বয়স ও স্তরভেদে পাঠ্যতালিকার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে সৃজনশীল বই একজন মানুষের চিন্তার দিগন্তকে প্রসারিত করে এবং তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

লাইব্রেরি বিপ্লব: উপজেলা থেকে ইউনিয়ন

সংস্কৃতিমনস্ক মেধাবী জাতি গঠনে জাতীয় গ্রন্থাগার নীতি ২০২৩ প্রণীত হলেও পাবলিক লাইব্রেরী স্থাপনের প্রশ্নে তা রহস্যময় নিরব। বর্তমানে বাংলাদেশে ৭১টি সরকারী বা পাবলিক লাইব্রেরি থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে এর চিত্র হতাশাজনক, মাত্র ৩টি উপজেলায় পাবলিক লাইব্রেরী আছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি ‘আদর্শ লাইব্রেরি’ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। তবে সাবধান থাকতে হবে যেন সেই লাইব্রেরিগুলো কেবল নামসর্বস্ব না হয়। সেখানে এমন বই থাকা উচিত যা শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করবে, তাকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো মননশীলতার আলো পাবে।

নীলক্ষেত সমাচার ও প্রকাশনা সংকট

আমাদের দেশের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্প এখনো বহুলাংশে ত্রুটিপূর্ণ। ভালো লেখকের সংকট যেমন আছে, তার চেয়ে বড় সংকট ভালো পাঠকের। প্রকাশকরা ঝুঁকি নিয়ে ভালো বই ছাপতে চান না কারণ বিক্রি কম। আবার কপিরাইট আইনের দুর্বলতায় নীলক্ষেতে বইয়ের পাইরেটেড কপি লেখক ও প্রকাশকের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। অথচ এই নীলক্ষেতই আবার নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সস্তায় জ্ঞানার্জনের একমাত্র ভরসা। এই দ্বন্দ্ব নিরসনে সরকারকে বইয়ের ওপর শুল্ক কমানো এবং মানসম্মত প্রকাশনাকে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

বই হোক আমাদের পরিচয়

বই পড়া কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার অপরিহার্য রসদ। একটি স্বাবলম্বী ও উন্নত জাতি গঠনে প্রযুক্তির চেয়েও বেশি প্রয়োজন মেধার কর্ষণ। আমরা যদি আমাদের শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি একটি ভালো অনুবাদ গ্রন্থ বা ধ্রুপদী সাহিত্য তুলে দিতে পারি, তবেই তারা আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে। বই মেলা যেন কেবল ফেব্রুয়ারি মাসের আনুষ্ঠানিকতা না হয়, বরং সারা বছর বই কেনা ও উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

আসুন, ড্রয়িংরুমের আভিজাত্য বাড়াতে নয়, বরং মনের অন্ধকার দূর করতে বই পড়ি। প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পাড়া আর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলি বইয়ের ছোট ছোট সাম্রাজ্য। তারেক রহমানের এই সময়োপযোগী নির্দেশনা যেন আমলাতান্ত্রিক ফাইলে আটকে না যায়, বরং গণআন্দোলনে রূপ নেয়, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মনে রাখতে হবে, যে জাতি বই পড়ে না, সে জাতি বিশ্বসভায় কোনোদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।

শিক্ষার্থীদের ‘মননশীল নাগরিক’ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তার হাতে শুধু গাইড বই বা নোট বই তুলে দিলে হবে না। তাকে এমন বই দিতে হবে যা তাকে প্রশ্ন করতে শেখাবে, অন্যকে অনুভব করতে শেখাবে। এই শ্রেণীভিত্তিক পাঠ্যতালিকা প্রণয়নে সরকার, বাংলা একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র যদি দ্রুত একটি খসড়া তৈরি করে এবং তা প্রতিটি উপজেলায় লাইব্রেরি স্থাপন সহ পৌঁছে দেয়, তবেই প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশনা একটি অর্থবহ সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে। মনে রাখতে হবে, পাঠ্যবই কেবল পরীক্ষায় পাশ করায়, কিন্তু পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই জীবন যুদ্ধে জয়ী করে।

লেখক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, অ্যাসিস্টেন্ট অ্যাটর্নি-জেনারেল ফর বাংলাদেশ ও পাবলিক পলিসি অ্যানালিস্ট।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *