বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: প্রথম রিভিউতে উত্তীর্ণদের ভাইভা নেওয়ার নির্দেশ


কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) লিখিত পরীক্ষার বিতর্কিত প্রথম রিভিউ ফলাফল বাতিল করার সিদ্ধান্তকে চূড়ান্তভাবে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে আইনি লড়াই শেষে প্রথম রিভিউ ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬৩২ জন পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রার্থীর মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হলো।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে এই রায় প্রকাশ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন।

এর আগে গত ১০ জুন বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল চূড়ান্ত ও যথাযথ (Absolute) ঘোষণা করে সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিলেন। আজ সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হলো।

আদালতে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের পক্ষে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দীর্ঘ আইনি শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল এবং ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম।

রায়ের মূল নির্দেশনা ও ভাইভা পরীক্ষার সময়সীমা

হাইকোর্ট প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটিকে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছেন:

  • ভাইভা পরীক্ষার সুযোগ: বিজ্ঞ আদালত প্রথম রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে রিটকারী প্রার্থীদের অবিলম্বে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

  • যুক্তিসঙ্গত সময় নির্ধারণ: বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটিকে তাদের সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী একটি যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে এই ভাইভা পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

  • রিট না করা প্রার্থীদের জন্যও সমতা: রায়ে আদালত এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বলেছেন, প্রথম রিভিউ ফলের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যারা আইনি জটিলতা বা অন্য কোনো কারণে এই রিট পিটিশন দায়ের করেননি, তারাও রিট আবেদনকারীদের মতোই সমান আইনি সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, রিট না করা সেই প্রার্থীদেরও একইভাবে ভাইভা পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ

এই জটিল আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল গত বছর। বার কাউন্সিলে আইনজীবী সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর গত বছরের ১৮ নভেম্বর প্রথম রিভিউ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহের মাথায়, অর্থাৎ গত বছরের ২৪ নভেম্বর বার কাউন্সিল এক আকস্মিক সভায় ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত সেই প্রথম রিভিউ ফলাফল সম্পূর্ণ বাতিল করার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সাথে রিভিউ আবেদনকারী প্রতিটি প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনরায় (দ্বিতীয়বার) মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে বার কাউন্সিল দ্বিতীয় রিভিউয়ের ফলাফল ঘোষণা করে এবং কেবল দ্বিতীয় রিভিউতে উত্তীর্ণদের ভাইভা পরীক্ষা সম্পন্ন করে। বার কাউন্সিলের এই দ্বিমুখী ও আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে প্রথম রিভিউতে উত্তীর্ণ হওয়া ৬৩২ জন পরীক্ষার্থী চরম বৈষম্য ও আইনি বঞ্চনার শিকার হন।

নিজেদের বৈধ অধিকার ফিরে পেতে এবং প্রথম রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সংক্ষুব্ধ ৬৩২ জন পরীক্ষার্থী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ হাইকোর্টের এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের মাধ্যমে ৬৩২ জন শিক্ষানবিস আইনজীবীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *