বার কাউন্সিলের রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না—হাইকোর্টের রুল


২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ শতাধিক শিক্ষার্থীর রিভিউ ফলাফল বাতিল ঘোষণায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে কেন ইতিবাচক বিবেচনা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এ রুল জারির আদেশ দেন।

এর ফলে ১২ শতাধিক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক বিচারক ও সিনিয়র আইনজীবী ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন অসীম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট গাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বারের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলন এবং অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব এহসান হাবিব।

এসময় সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ শতাধিক আইনজীবী শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যম নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত লিখিত ফলাফলে সাত হাজার ৯১৭ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। বাকিদের মধ্যে অনেকেই দাবি করেন, তারা পাস করার মতো ভালো পরীক্ষা দিয়েছেন কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে তাদের রোল নম্বর আসেনি। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর বার কাউন্সিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খাতা রিভিউ বা নিরীক্ষার আবেদন আহ্বান করে।

আরও পড়ুন : টাঙ্গাইল বার সমিতির তিন আইনজীবী সাময়িক বহিষ্কার, একজনকে শোকজ

নির্ধারিত বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন গ্রহণ ও পর্যালোচনা শেষে ১৮ নভেম্বর বার কাউন্সিল ও এনরোলমেন্ট কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। এতে এক হাজার ৯১৪ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। ফলে তারা পরবর্তী ধাপ ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুস্পষ্ট আইনসম্মত অধিকার অর্জন করেন।

তবে নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় অল্প কয়েকজনের আপত্তির মুখে ২৩ নভেম্বর আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরো নিরীক্ষার ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে নতুন করে খাতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত জানায় বার কাউন্সিল।

পুনরায় খাতা মূল্যায়ন শেষে চলতি বছরের ৫ মার্চ নতুন করে নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে বার কাউন্সিল। এতে এক হাজার ৫৫০ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়, যেখানে প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ এক হাজার ৯১৪ জনের ভেতরে এক হাজার ২৯৪ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে বাদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এই ফলাফলে বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ৪৬ কিংবা এর চেয়ে কম নম্বর পাওয়া ৯ শতাধিক পরীক্ষার্থীকে পাস দেখানো হয়।

ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ নিয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বার কাউন্সিলের কাছে স্মারকলিপি আকারে আবেদন দেওয়া এবং মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে দাবি পেশ করে আসছিলেন। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ায় হাইকোর্টে এক হাজার ২৯৪ জনের পক্ষে রিট আবেদন করা হয়। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারির আদেশ দেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় নিরীক্ষা পদ্ধতি চালু করে। এতে লিখিত পরীক্ষায় ৫৭৪ জন আইনজীবী উত্তীর্ণ হন, যাদের অধিকাংশই বর্তমানে উচ্চ আদালতে নিয়মিত প্র্যাকটিস করছেন।

হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় নিরীক্ষার এই সফল অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষাতেও নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *