প্রত্যাহারের আদেশের পর এজলাসে ঢুকে সেই ওসির ৩ স্যালুট, বিচারক বললেন ‘আপনি এখানে কেন’
আদালতের নির্দেশের পরও মামলা না নেওয়ার অভিযোগে প্রত্যাহারের আদেশ পাওয়া ফেনীর দাগনভূঞা থানার সেই বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান এবার বিচারকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘প্রত্যাখ্যাত’ হয়েছেন।
গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খানের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খানের এজলাসে হুট করে ঢুকে পড়েন ওসি নোমান। সেখানে তিনি তিনবার স্যালুট দিয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। বিচারক বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে স্টেনোগ্রাফারের কাছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় জানতে চান।
পরিচয় জানার পর বিচারক কড়া ভাষায় ওসিকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, “আপনি এখানে কেন এসেছেন? আপনার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। ইতিমধ্যে আপনাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ আদেশই।” এই কথা বলার পরপরই এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান ওসি নোমান।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এজলাসে বিচারক ওঠার আগেই ওসি নোমান তাঁর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আদালত সংশ্লিষ্টরা অনুমতি ছাড়া অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে উপায় না দেখে বিচারক এজলাসে বসলে তিনি হুট করে ভেতরে ঢুকে স্যালুট জানানোর মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালান।
আরও পড়ুন : আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা: দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ জানান, দাগনভূঞা থানার ওসি বিচারকের এজলাসে প্রবেশ করেছিলেন বলে তিনি শুনেছেন।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, “ওসিকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আদালতের অফিসিয়াল চিঠির অনুলিপি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট দেওয়া এক আদেশে ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান ওসি নোমানকে অযোগ্য ঘোষণা করে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।
আদেশের পটভূমিতে জানা যায়, দাগনভূঞার মোমারিজপুর এলাকার এক নারী (২৪) তাঁর স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওসি সেই আদেশ উপেক্ষা করেন। শুনানি চলাকালে আইনজীবীরা একই থানার অপর এক নারীকে (২২) যৌতুকের জন্য হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনার পরও মামলা না নেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।
এসব ঘটনা পর্যালোচনা করে আদালত আদেশে উল্লেখ করেন যে, দুটি পৃথক গুরুতর ঘটনার অভিযোগ মামলা হিসেবে নিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করা থেকে ওসির দাপ্তরিক অযোগ্যতার স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। ফলে তাঁকে অবিলম্বে থানা থেকে প্রত্যাহার, মামলা নিতে অস্বীকৃতির বিষয়টি তদন্ত এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
Source link
tags]
Leave a Reply