তাৎক্ষণিক সামারি ট্রায়ালে স্ত্রীর কারাদণ্ড


বরিশাল ব্যুরো | বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় নিজ স্বামী ও শাশুড়িকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগে এক নারীকে তাৎক্ষণিক সংক্ষিপ্ত বিচার (Summary Trial) পরিচালনা করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গতকাল ১৯ জুলাই (রবিবার) বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে এই ঘটনাটি ঘটে।

অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ্ তাৎক্ষণিকভাবে আদালত কক্ষে বিচার পরিচালনা করে অভিযুক্ত নারী ফাতিমা মনিষাকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল ১৯ জুলাই রবিবার বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে যৌতুক নিরোধ আইনের অধীনে দায়েরকৃত এক মামলায় (সি.আর-৫৩৯/২০২৬, কোতয়ালী) আসামি ফাতিমা মনিষা আদালতে নিয়মিত হাজিরা প্রদান করতে আসেন।

বেলা আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে আদালতের এজলাস কক্ষের আনুষ্ঠানিক হাজিরা কার্যক্রম শেষে বের হওয়ার সময় অতিরিক্ত সিএমএম আদালতের সামনের বারান্দায় আসামি ফাতিমা মনিষা অতর্কিতে তাঁর স্বামী (মামলার বাদী) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এবং তাঁর বয়োবৃদ্ধ মাকে দেখতে পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যেই আদালত প্রাঙ্গণে একাধিক আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সামনে স্বামী সাজ্জাদ হোসেনের মাথায় কিল-ঘুষি মেরে শারীরিক নিগ্রহ করেন।

আদালত চত্বরে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের এই ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারা (স্বেচ্ছায় আঘাত প্রদান) এবং ৫০৬(২) ধারায় (গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অপরাধমূলক হুমকি) অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

ঘটনাটি আদালত চত্বরের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং উপস্থিত পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, শরিয়ত উল্লাহ্ কালবিলম্ব না করে এজলাসে তাৎক্ষণিক ‘সামারি ট্রায়াল’ (সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়া) শুরু করেন। বিচারে ফৌজদারি দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামি ফাতিমা মনিষাকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আইনজীবীরা বলছেন, বিচারালয়ের পবিত্রতা রক্ষা এবং আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা বা বিশৃঙ্খলা রোধে এই ধরনের তাৎক্ষণিক জুডিসিয়াল সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখবে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *