ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৯টি মামলা, জরিমানা ১৫ লাখ টাকা


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে চালু হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সম্বলিত আধুনিক নজরদারি ক্যামেরায় প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ব্যাপক সাফল্য মিলেছে। চালুর প্রথম দিনেই এআই ক্যামেরায় অনিয়ম ও অপরাধ শনাক্ত করে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে এসব মামলায় মোট ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টায় সংবাদমাধ্যমকে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এআই সম্বলিত নজরদারি ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে। কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন অমান্য করলেই সিসিটিভি ফুটেজ এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্লেষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নজরদারির মূল জায়গাগুলো হলো:

  • অতিরিক্ত গতি: নির্দিষ্ট গতিসীমা অতিক্রমকারী যানবাহনের গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিমাপ ও সনাক্তকরণ।

  • ভুল পথে গাড়ি চালানো: মহাসড়কের একমুখী রাস্তায় উল্টো বা ভুল লেনে যানবাহন পরিচালনা চিহ্নিতকরণ।

  • অবৈধ পার্কিং: লেন দখল করে রাস্তার ওপর যত্রতত্র ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা সনাক্তকরণ।

ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ার পরপরই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় মামলা নথিবদ্ধ হচ্ছে এবং তা অনুযায়ী জরিমানা ও আইনি পদক্ষেপের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিওনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, ‘মহাসড়কে এআই ক্যামেরার কার্যক্রম আরও জোরদার ও বিস্তৃত করা হলে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের সার্বিক প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। এর ফলে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে। ইতোমধ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব সড়কে পড়তে শুরু করেছে এবং চালকদের মাঝেও সতর্কতামূলক সচেতনতা দেখা যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই এআই ক্যামেরার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। মহাসড়কের দীর্ঘ ২৫০ কিলোমিটার অংশে সার্বক্ষণিক তীক্ষ্ণ নজরদারি বজায় রাখতে মোট ১,৪২৭টি উচ্চপ্রযুক্তির এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা মহাসড়ককে একটি সুরক্ষিত ও প্রযুক্তিবান্ধব ট্রাফিক ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে এসেছে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *