মূল্যস্ফীতি রোধে টাকা ছাপানো বন্ধ ও ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিতে আইনি নোটিশ


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার মজুত ধ্বংস করতে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

ইচ্ছেমতো টাকা ছাপানোর অভিযোগ

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অর্থনীতিতে কৃত্রিম কাগুজে মুদ্রার সরবরাহ বাড়াচ্ছে। নোটিশদাতার দাবি, এভাবে অর্থের সরবরাহ বাড়ানোর ফলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে।

নোটিশে ‘কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি’র (Quantity Theory of Money) প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ দেশের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা জুনের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশের চেয়ে কম। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি

নোটিশে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, উচ্চ মূল্যমানের এ নোট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে অপরিহার্য নয় এবং এটি দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও কালোটাকা সংরক্ষণে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।

নোটিশে ভারতের ২ হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণ তুলে ধরে বাংলাদেশেও ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশদাতার দাবি, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে কালোটাকার মজুত কমানো এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ

নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের ‘জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার’-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

নোটিশে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের জীবনধারণের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

১৫ দিনের সময়

আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার দাবিতে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (PIL) করা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬ শেষে দেশের ব্রড মানি (M2) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ছিল ৩৬.৪২ বিলিয়ন ডলার।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *