সংশোধিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি, কমিশনে যুক্ত হলেন সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি


সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশে সংশোধনী এনে কমিশনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কমিশনে বাংলাদেশের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।

কমিশনের কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

সংশোধনের আগে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের ১০ ধারায় কমিশনের যে কাঠামো নির্ধারিত ছিল, সেখানে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পদটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা উপদেষ্টার সাথে কমিশনের সদস্য হিসেবে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে যুক্ত করা হয়েছে।

এর ফলে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কমিশনে অভিজ্ঞ সাবেক প্রধান বিচারপতির সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের দায়িত্ব ও ক্ষমতা

অধ্যাদেশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হলে অধস্তন আদালত এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব এই সচিবালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

এছাড়া বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা, ছুটি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের হাতে। সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকবেন প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকরা

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, শুধু বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের বিষয়গুলো সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অধীনে যাবে। তবে যেসব বিচারক নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কিংবা আইন কমিশনের মতো বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকবে।

সংশোধিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কমিশনের সদস্যরা

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কমিশন গঠিত হবে নিম্নলিখিত সদস্যদের সমন্বয়ে:

  • প্রধান বিচারপতি, যিনি কমিশনের চেয়ারপারসন

  • আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা উপদেষ্টা

  • বাংলাদেশের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

  • প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক

  • জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন

  • বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, কমিশন দেশের বিচার প্রশাসনের উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করবে এবং কমিশন নিজস্ব কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারবে।

অধ্যাদেশ প্রণয়নের পটভূমি

এর আগে গত ২০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৩০ নভেম্বর মূল অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সর্বশেষ সংশোধনের মাধ্যমে কমিশনের কাঠামোয় এই পরিবর্তন আনা হলো।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *