৭ মার্চের ভাষণ প্রচার ‘নিষিদ্ধ’— আইনি ভিত্তি জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন


রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সাউন্ড বক্সে প্রচার করাকে “নিষিদ্ধ” বলা হয়েছে— এমন অভিযোগের আইনি ভিত্তি জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী আনিস উদ্দিন রোববার (৮ মার্চ) শাহবাগ থানার তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার কাছে এ আবেদন করেন।

চিঠিতে তিনি জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় যে ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাজধানীর চানখারপুল মোড় এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান–এর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে প্রচার করার অভিযোগে পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ দুইজনকে আটক করে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি সাউন্ড বক্স জব্দ করে।

সংবাদে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উল্লেখ করেন, ওই ভাষণ প্রচার করা “নিষিদ্ধ” হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়েছে।

আবেদনে আইনজীবী আনিস উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি আন্তর্জাতিক সংস্থা UNESCO–এর Memory of the World Register–এ অন্তর্ভুক্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা প্রয়োগের বৈধতার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়।

যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী আবেদনে আটটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সাউন্ড বক্স বা অন্য মাধ্যমে প্রচারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার কোনো আইন, বিধি, সরকারি নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন থাকলে তার আইনি ভিত্তি ও সত্যায়িত অনুলিপি

  • আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন আইনের কোন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত

  • এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় কোনো জিডি বা মামলা করা হয়ে থাকলে তার নম্বর, তারিখ ও অনুলিপি

  • আটক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও দায়িত্ব

  • ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সাউন্ড বক্সের Seizure List থাকলে তার অনুলিপি

  • এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা, গেজেট নোটিফিকেশন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকলে তার কপি

  • আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত

  • এ ঘটনা নিয়ে থানার কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক প্রতিবেদন থাকলে তার অনুলিপি

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রয়োজনীয় ফি প্রদান করে এসব তথ্যের সত্যায়িত অনুলিপি গ্রহণে আবেদনকারী সম্মত আছেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ

চিঠিতে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে কারণ উল্লেখ করে লিখিতভাবে জানাতে হবে, যাতে আইনের বিধান অনুযায়ী আপিল করা যায়।

চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে—

  • ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর পুলিশ কমিশনারের কাছে

  • বাংলাদেশ পুলিশ–এর মহাপরিদর্শকের কাছে

  • বাংলাদেশ তথ্য কমিশন–এর প্রধান তথ্য কমিশনারের কাছে



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *