চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ সদস্যের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন


কোর্ট রিপোর্টার, চাঁদপুর | কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী ও শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রিট মামলার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজিএম) আদালতে ৫ সদস্যবিশিষ্ট ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হেনস্তা রোধ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমানের সরাসরি নির্দেশ ও জারিকৃত এক অফিশিয়াল আদেশের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করা হয়।

ঘোষিত এই বিশেষ কমিটিতে চাঁদপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসমা জাহান নীপা-কে সর্বসম্মতিক্রমে ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নারী অধিকার ও সমাজকল্যাণ খাতের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হাইকোর্টের গাইডলাইন অনুযায়ী গঠিত এই ৫ সদস্যের কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা হলেন:

  • ফারজানা তাবাসসুম মেরী (সদস্য) – সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চাঁদপুর।

  • আবদুল মান্নান (সদস্য) – সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চাঁদপুর।

  • জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (সদস্য) – চাঁদপুর জেলা।

  • সভাপতি (সদস্য) – বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, চাঁদপুর জেলা শাখা।

আইনি নথির ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে দেশের সকল কর্মস্থল এবং শিক্ষাঙ্গনে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় একটি স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। ওই রিটের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৯ সালে মহামান্য হাইকোর্ট দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের ঐতিহাসিক নির্দেশনা ও গাইডলাইন প্রদান করেন।

পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন হাইকোর্টের সেই নির্দেশনার আলোকে দেশের সকল জেলা জজ আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই ধরনের কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরের সিজিএম আদালতে এই কমিটি আলোর মুখ দেখল।

নবগঠিত এই কমিটি চাঁদপুর আদালত প্রাঙ্গণে কর্মরত নারী বিচারক, আইনজীবী, আদালতের কর্মচারী এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ নারীদের সুরক্ষা দিতে কাজ করবে। কমিটির প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে— আদালত প্রাঙ্গণে যেকোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা মানসিক হেনস্থা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গ্রহণ করা, ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও তদন্ত চালানো এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা।

আইনজীবীরা চাঁদপুর আদালতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, বিচারালয়ের মতো পবিত্র স্থানে এই ধরনের কমিটির সক্রিয় উপস্থিতি বিচারপ্রার্থী নারী ও নারী আইনজীবীদের পেশাগত নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *