কুষ্টিয়া আদালতের ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এখন বিড়ির দোকান; বিশ্রামের সুযোগ থেকে বঞ্চিত বিচারপ্রার্থীরা


সিরাজ প্রামাণিক : কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামের জন্য নির্মিত আধুনিক বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এখন রূপ নিয়েছে বিড়ি-সিগারেটের দোকানে। এতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীরা বিশ্রামের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ‘ন্যায়কুঞ্জ’ গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক উদ্বোধন করেছিলেন। প্রায় আটশ’ বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত এই বিশ্রামাগারে ৪০ জনের বসার ব্যবস্থা, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ওয়াশরুম, একটি ব্রেস্টফিডিং জোন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটি ছোট টি-স্টল ছিল।

কিন্তু উদ্বোধনের এক বছর না যেতেই সেটি মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে এখন একটি বাণিজ্যিক দোকানে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্রামাগারের ভেতরে সকাল থেকেই চলছে বিড়ি, পান ও মুদি সামগ্রীর দোকান। প্রকাশ্যে সিগারেটের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকার ফলে সেখানে বসার মতো কোনো পরিবেশ নেই। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের প্রসেস সার্ভাররা দূর থেকে মক্কেলদের ডেকে এনে এখানে ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন।

আরও পড়ুন : গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহার: সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

অভিযোগ রয়েছে, লিগ্যাল এইডের কর্মচারী কামরুল নামে এক ব্যক্তি ওই টি-স্টলটি বরাদ্দ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে সেটি না চালিয়ে তৃতীয় পক্ষের এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়েছেন। বর্তমান দোকান পরিচালনাকারী কুমারখালী উপজেলার পান্টি বিশ্বাস পাড়া গ্রামের আসিফ জানান, তিনি কামরুলকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে এই দোকান চালাচ্ছেন। বিচারপ্রার্থীদের সমস্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বিচারপ্রার্থীদের কী সমস্যা হবে, সেটা আমার দেখার বিষয় নয়।”

বিশ্রাম নিতে আসা বিচারপ্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিচারের আশায় এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ন্যায়কুঞ্জে ঢুকলেই এখন বিড়ি-সিগারেটের উৎকট গন্ধে টেকা দায়। তাঁরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং ন্যায়কুঞ্জ থেকে মুদি দোকান অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

আইনজীবীরাও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল মানবিক সেবা নিশ্চিত করা, কিন্তু তা এখন বাণিজ্যিক ব্যবসায় পরিণত হওয়ায় আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

বিশ্রামাগারের এই অব্যবস্থাপনা ও বিড়ি কেনাবেচার বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির মিজানুর রহমান বলেন, “লিগ্যাল এইডের কর্মচারী কামরুলের ঠিকমতো বেতন হয় না, সে কারণে মানবিক কারণে তাকে টি-স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কামরুল আবার কার কাছে তা ভাড়া দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানাব।”



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *