সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা


আসন্ন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী কোনো আইনজীবী অংশ নিতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সমিতির সাধারণ সদস্যরা। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটির সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নেই বলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাউথ হলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী হুমায়ুন কবির মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রায় ৩০০ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত আইনজীবীদের বড় একটি অংশ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে জানা গেছে।

সভার কার্যক্রম পরিচালনা করেন এসসিবিএ সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলন। তিনি জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯-এর আওতায় আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সমিতির প্রায় ১০০ সদস্য আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে বিশেষ সভা ডাকার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যারিস্টার মিলন আরও স্পষ্ট করেন যে, যারা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ বা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সমর্থক ছিলেন এবং দলটির কোনো সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে কোনো আইনজীবী চাইলে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

বিশেষ সাধারণ সভার এই সিদ্ধান্তের কথা সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানানো হবে। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দীন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিশন এই সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বার সম্পাদক আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। তিনি জানান, বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের অংশগ্রহণে একটি প্রতিযোগিতামূলক ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবার নির্বাচনে আট হাজারের বেশি আইনজীবী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১৩ ও ১৪ মে দুই দিনব্যাপী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনে সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ১৪টি পদে এক বছরের জন্য নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবেন আইনজীবীরা।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *