সিরাজগঞ্জে বাদীসহ দুজনের এক মাসের কারাদণ্ড


সিরাজগঞ্জে একটি যৌতুক মামলায় প্রকৃত সাক্ষীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে আদালতে সাক্ষী হিসেবে হাজির করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাদীসহ দুজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক আইভীন আক্তার এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশনামা অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সিরাজগঞ্জের ফুলকোচা গ্রামের মোছা. লিপি বেগম ও মো. আসতাহের। লিপি বেগমের পিতার নাম মৃত বাহার আলী শেখ এবং আসতাহেরের পিতার নাম মো. শহিদুল ইসলাম।

যেভাবে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে

আদেশনামা থেকে জানা যায়, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় দায়ের করা সি.আর-১৩৭৬/২০২৫ (সদর) মামলার একমাত্র আসামি মো. শহিদুল ইসলাম আদালতে হাজির হন।

ওই মামলায় বাদীপক্ষ থেকে বাদীসহ দুজন সাক্ষী আদালতে হাজির হন। পি.ডব্লিউ-১ হিসেবে বাদী মোছা. লিপি বেগম এবং পি.ডব্লিউ-২ হিসেবে মো. আবুল কালাম আজাদ সাক্ষ্য দেন।

দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার পর আসামি শহিদুল ইসলাম আদালতে অভিযোগ করেন, পি.ডব্লিউ-২ হিসেবে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি প্রকৃতপক্ষে আবুল কালাম আজাদ নন।

এরপর আদালত প্রকাশ্য আদালতে বাদী লিপি বেগমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও স্বীকার করেন, পি.ডব্লিউ-২ হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তি আবুল কালাম আজাদ নন।

পরে ওই ব্যক্তির সঠিক নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি নিজের নাম মো. আসতাহের এবং বাবার নাম মো. শহিদুল ইসলাম বলে জানান।

আদেশনামায় বলা হয়েছে, এভাবে মামলার বাদী লিপি বেগম মো. আসতাহেরকে আবুল কালাম আজাদ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেন।

পৃথক মিস মামলা, অভিযোগ গঠন ও দোষ স্বীকার

এ ঘটনায় আসামি শহিদুল ইসলামের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় পরীক্ষা করে জবানবন্দি নেওয়া হয়।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় লিপি বেগম ও মো. আসতাহেরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়া হয় এবং বিষয়টি মিস কেস হিসেবে নিবন্ধন করা হয়।

পরে একই দিন আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর দুজনই নিজেদের দোষ স্বীকার করেন এবং মামলা থেকে অব্যাহতি চান।

আদেশনামা অনুযায়ী, আসামিদের দোষস্বীকারমূলক জবানবন্দি প্রকাশ্য আদালতে গ্রহণ করা হয়। তাঁদের কেন সাজা দেওয়া হবে না—এ বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৩ ধারায় মৌখিক ও লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হলেও তাঁরা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং তাঁরা বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত বলে জানান।

এক মাসের কারাদণ্ড

আদেশনামায় বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

তবে আসামিদের বয়স, পারিবারিক অবস্থা, আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন, বারবার ক্ষমা প্রার্থনা, অনুতপ্ত হওয়ার বিষয় এবং লিখিত দোষস্বীকারমূলক জবানবন্দি বিবেচনায় তাঁদের সর্বোচ্চ সাজা না দিয়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া যুক্তিসংগত বলে আদালত সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর আদালত আদেশ দেন, লিপি বেগম ও মো. আসতাহেরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারার অভিযোগ যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

আসামিদের সাজা পরোয়ানামূলে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *