বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারকের মন্তব্যের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর


বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারক সমালোচনা করেছেন অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিচারকের খাস কামরার দরজার কাচ ভাঙচুর করা হয়।

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা দাবি করেছেন, দুপুরে এজলাসে এক বিচারকের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করার প্রতিবাদে তারা আদালতের সামনে রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন। ভাঙচুরের সঙ্গে তারা জড়িত নন।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব বাবর আলী বলেন, ‘২০২৩ সালের একটি বিস্ফোরক মামলায় আমিসহ কয়েকজন আসামি এদিন দুপুরে আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিনের আবেদন জানাই। বিচারক জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। ওই সময় এজলাসে বিচারক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি আগের সরকার ভালো ছিল বলে মন্তব্য করেন। তখন আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। এজলাস থেকে বের হয়ে আদালতের সামনে রাস্তায় কর্মীরা বিক্ষোভ করি আমরা। সেখানে আমি বক্তব্য দিই। তখন বিচারককে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’

বাবরের অভিযোগ, ‘জামিন মঞ্জুরের পর বিচারক আমাদের উদ্দেশে বলেন, দুই ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। আপনাদের সরকার। আগের সরকারই তো ভালো ছিল।’ তবে বিচারকের খাস কামরার দরজায় ভাঙচুরের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বাবর।

তিনি বলেন, ‘ভাঙচুরের সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আদালতের সিসি ক্যামেরায় দেখা যাবে কে বা কারা জড়িত। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা এতে জড়িত নই।’

তবে আদালতে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বিচারক কোনও সমালোচনা করেননি। তিনি (বিচারক) বলেছিলেন, “বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সব জায়গায় খারাপ। এখানে যারা আপনাদের লোক আছেন, তাদের একটু বলেন, আদালত চলাকালে যেন বিদ্যুৎ থাকে, সেই ব্যবস্থা যেন করেন।” তখন এজলাসের বাইরে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ছেলেরা হট্টগোল শুরু করে। প্রথমে খাস কামরার দরজার কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরে এজলাসের দরজার কাচও ভাঙা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘আদালত থেকে বের হওয়ার পর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, তা আমার জানা নেই।’

তবে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসিবের ভাষ্য, আদালত চত্বরে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওসব উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি আদালতের বিচারকের খাস কামরার সামনে মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা বিচারকের খাস কামরার দরজায় ভাঙচুরও করে। ঘটনাটি উদ্বেগজনক। এটি মব কালচারের অংশ।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (অভিযান) আব্দুর রউফ বলেন, ‘আদালতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে তা বড় ধরনের নয়। বিক্ষোভও হয়েছে এবং কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *