পুলিশ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধ ও ভুয়া পেজ অপসারণে লিগ্যাল নোটিশ


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | বাংলাদেশ পুলিশ এবং পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান মিথ্যা ও উসকানিমূলক অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আজ রবিবার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে এই নোটিশটি পাঠান।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজিপি (ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ) এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বরাবরে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুকে কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ পুলিশ এবং পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর নাম ও লোগো ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেসবুক পেজ ও আইডি খুলে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার এমন অপচেষ্টা জনমনে গভীর বিভ্রান্তি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে।

আরও পড়ুন : সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ হাইকোর্টের

আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু নোটিশে স্পষ্ট করেন যে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিশেষ করে— সাইবার নিরাপত্তা আইন, দণ্ডবিধি (Penal Code), মানহানি সংক্রান্ত আইন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

নোটিশে বিটিআরসি, তথ্য মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট সাইবার ইউনিটগুলোর প্রতি মূলত তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে: ১. বাংলাদেশ পুলিশ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারকারী ফেসবুক পেজ ও আইডিগুলো দ্রুত শনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ২. ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর নামে পরিচালিত ভুয়া ফেসবুক পেজ ও আইডিগুলো জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হতে স্থায়ীভাবে অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি এবং সাইবার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

নোটিশে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়েছে যে, এই নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ (বাহাত্তর) ঘণ্টার মধ্যে যদি অপপ্রচার বন্ধ ও ভুয়া পেজ অপসারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে জনস্বার্থে এবং আইনানুগ প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ (রিট পিটিশন) গ্রহণ করা হবে। এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *