জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট


আন্তর্জাতিক ডেস্ক | যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) বাতিল করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা বহুল আলোচিত নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত নির্বাহী আদেশটি স্থগিত করে নিম্ন আদালতের দেওয়া পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই রায়কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা ও রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর এক প্রতিবেদন থেকে এই ঐতিহাসিক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল— কোনো শিশুর মা-বাবার কেউ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল নাগরিক বা সেখানে স্থায়ী বৈধ বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) না হন, তবে সেই শিশু যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও তাকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের (Birthright) স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায়টি লিখেছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাম্পের যুক্তি খণ্ডন করে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন— যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে (অবৈধ) কিংবা সাময়িকভাবে বসবাসরত মা–বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানরাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী শতভাগ জন্মসূত্রে নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে।

প্রধান বিচারপতির এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর (14th Amendment) মূল চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করা হলো, যা দেশটিতে জন্ম নেওয়া যেকোনো শিশুর নাগরিকত্বের অধিকারকে সুরক্ষা দেয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এই নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এই আদেশের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা বা ‘অ্যাঙ্কর বেবি’র সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব হবে। তবে নিম্ন আদালত হয়ে সর্বোচ্চ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করায় ট্রাম্পের সেই কঠোর অভিবাসন নীতি বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়ল। এই রায়ের ফলে লাখ লাখ অভিবাসী পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের অধিকার সুরক্ষিত রইল।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *