বার কাউন্সিল পরীক্ষায় সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের দাবি চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির


বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির (এডভোকেটশিপ) পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

গত সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের কাছে এই অনুরোধ জানানো হয়।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জন। সম্প্রতি গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে বার কাউন্সিল থেকে সনদের অনুমোদন পেয়ে ১,১১২ জন নবীন আইনজীবী সমিতিতে সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। প্রতি বছরই এক হাজারের বেশি নবীন আইনজীবী এ সমিতিতে যুক্ত হচ্ছেন।

তবে চিঠিতে উদ্বেগের সঙ্গে তুলে ধরা হয় যে, নতুন আইনজীবীদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছেন যারা বয়সে প্রবীণ এবং অন্যান্য পেশা থেকে অবসর গ্রহণের পর এডভোকেটশিপ সনদ নিয়ে আইন পেশায় আসছেন।

আবেদনের যৌক্তিকতা ও নবীনদের বৈষম্যের চিত্র

আবেদনপত্রে বয়সসীমা নির্ধারণের স্বপক্ষে কয়েকটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে:

  • নবীনদের কর্মক্ষেত্র সংকট: অবসর গ্রহণের পর আসা প্রবীণরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং তাঁদের সামাজিক যোগাযোগ ও কাজের অভিজ্ঞতা বেশি থাকায় নবীন আইনজীবীরা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে অনেকেই পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।

  • বয়সসীমা না থাকার সুযোগ: অন্যান্য কোনো পেশায় অবসর গ্রহণের পর নতুন করে প্রবেশের সুযোগ না থাকলেও বার কাউন্সিলে নির্দিষ্ট বয়সসীমা না থাকায় অনেকে এই সুযোগ নিচ্ছেন। তাই এডভোকেটশিপ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হলে নবীনদের প্রতি বৈষম্য রোধ করা সম্ভব হবে।

  • অবকাঠামোগত সংকট: অতিরিক্ত সদস্য বৃদ্ধির ফলে চেম্বার ও মিলনায়তন সংকট দেখা দিচ্ছে। উপযুক্ত পরিবেশ ও স্থানের অভাবে মানসম্পন্নভাবে পেশা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আইন পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

চিঠির অনুলিপি বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, সচিবের কাছে অবগতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *