পারিবারিক আদালতের আদেশ নিয়ে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন চলবে কি না: রায় ২৪ জুন
কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | পারিবারিক আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানী কার্যবিধির (সিপিসি) ১১৫ ধারা অনুযায়ী ‘সিভিল রিভিশন’ (Civil Revision) আইনিভাবে চলবে কি না—এ বিষয়ে দেশের বিচার ব্যবস্থার অত্যন্ত নীতিগত ও যুগান্তকারী রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৪ জুন এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হবে, যার ওপর ভিত্তি করে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এমন হাজার হাজার মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
আজ বুধবার (১৭ জুন) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের একক বেঞ্চে এই সংক্রান্ত ‘সিভিল রিভিশন নং ৫৫১৪/২০২৫’ মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত শুনানি শেষে আগামী ২৪ জুন (বুধবার) রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছেন।
এই মামলার শুনানিতে বিবাদী-প্রতিপক্ষে অংশ নেন এডভোকেট খন্দকার ইকবাল আহমেদ, এডভোকেট এ. কে. এম. খলিলুল্লাহ (কাশেম) এবং এডভোকেট মোহাম্মদ মুসফিকুল হক।
শিশু সন্তানের হেফাজত নিয়ে ডাক্তার দম্পতির আইনি লড়াই
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এই মামলার বাদী-পিটিশনার ডাক্তার মোঃ জুনায়েদ তার ০৭ বছরের কন্যা শিশুকে নিজের হেফাজতে নেওয়ার জন্য শিশু কন্যার মা ডাঃ তানিজা জাবিনের বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ঢাকার ৫ম পারিবারিক আদালত (পারিবারিক মামলা নং ৮৯৫/২০২৩) বিগত ২৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে এক আদেশ মূলে ০৭ বছরের কন্যা শিশুটিকে তার মাতা ও নানীর হেফাজতে রাখার নির্দেশ প্রদান করেন এবং একই সাথে বাবাকে সন্তানের সাথে দেখা করার আইনি সুযোগ দেন।
পারিবারিক আদালতের এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে পিতা ডাঃ মোঃ জুনায়েদ তার প্রাক্তন স্ত্রী ডাঃ তানিজা জাবিনের বিরুদ্ধে ঢাকার জেলা জজ আদালতে ‘পারিবারিক আপীল নং ২৬৫/২০২৫’ দায়ের করেন। পরবর্তীতে আপীল আদালত গত ০৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে শুনানি শেষে আপীলটি খারিজ করে দেন এবং প্রথম বিচারিক আদালতের আদেশ বহাল রাখেন।
সিপিসির ১১৫ ধারা বনাম পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ: আইনি বিতর্ক
বিচারিক আদালত ও আপীল আদালতের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী ডাঃ মোঃ জুনায়েদ দেওয়ানী কার্যবিধির (CPC) ১১৫ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট ডিভিশনে এই ‘সিভিল রিভিশন নং ৫৫১৪/২০২৫’ দায়ের করেন।
শুনানিকালে বিবাদী ডাঃ তানিজা জাবিনের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবীরা হাইকোর্টের সামনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি পয়েন্ট বা ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন যে, ‘পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫’ (Family Courts Ordinance, 1985)-এর ৩, ১৭ ও ২০ ধারার বিশেষ বিধান অনুযায়ী হাইকোর্টে দায়েরকৃত এই সিভিল রিভিশনটি কোনোভাবেই রক্ষণীয় বা ‘Maintainable’ নহে।
আইনজীবীরা তাদের আইনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের ২০ ধারার স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, পারিবারিক আদালতের মামলার সামগ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে দেওয়ানী কার্যবিধির (CPC) শুধুমাত্র ১০ (মামলা স্থগিত) ও ১১ (রেস-জুডিকাটা) ধারা প্রযোজ্য হবে; সিপিসির অন্য কোনো বিধান বা ধারা এখানে কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু আইনগত এই বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও বাদীসহ অনেক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ আইনের সুস্পষ্ট বিধান অমান্য করে ‘Wrong Forum’ বা ভুল আইনি এখতিয়ারে হাইকোর্ট ডিভিশনে এই সিভিল রিভিশন ফাইল করে আসছেন।
রায় কেন অত্যন্ত যুগান্তকারী হবে?
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বা জেলা জজের আপিল আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন দায়েরের ফোরাম নিয়ে আইন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্পষ্টতা বা বিতর্ক রয়েছে। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের আদালত আগামী ২৪ জুন এই ‘ভুল ফোরামের’ সিভিল রিভিশন চলবে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে রায় ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই একটি মাত্র রায়ের ওপর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে বিচারাধীন থাকা পারিবারিক আদালত সংক্রান্ত হাজার হাজার সিভিল রিভিশন মামলার ভবিষ্যৎ ফলাফল ও ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ফলে পুরো সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের চোখ এখন আগামী ২৪ জুনের এই রায়ের দিকে।
Source link
tags]
Leave a Reply