বিচারপ্রার্থী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইনজীবী গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ


রাজধানী ঢাকায় বিচারপ্রার্থী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আইনজীবীর নাম মো. শামসুল ইসলাম (৫৫)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় অভিযুক্ত আইনজীবীর নিজস্ব চেম্বারে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পল্টন মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য তিনি আইনজীবীর চেম্বারে গেলে অভিযুক্ত আইনজীবী প্রথমে তার শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন এবং বলেন, “তুমি কি চাও না তোমার মামলাটা দ্রুত শেষ হোক?”

এরপর ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হতে চাইলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মামলায় আগে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। পরে অভিযুক্ত আইনজীবী মো. শামসুল ইসলামের মাধ্যমে তিনি গত বছরের ২৪ জুন আদালত থেকে জামিন পান। এরপর থেকে নিয়মিত ওই আইনজীবীর মাধ্যমেই প্রতি মাসে মামলার হাজিরা দিয়ে আসছিলেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক রয়েল হোসেন আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, চলতি মাসে মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য কয়েকদিন ধরে ভুক্তভোগী নারী হোয়াটসঅ্যাপে অভিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিভিন্ন ব্যস্ততার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

গত ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে ভুক্তভোগী নারী আবার মামলার তারিখ জানতে চাইলে অভিযুক্ত আইনজীবী পরে যোগাযোগ করতে বলেন। একই দিন রাতে আবার ফোন করলে তিনি ভুক্তভোগী নারীকে বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় তার চেম্বারে যেতে বলেন।

আরও পড়ুন : ধর্ষণচেষ্টার সাজানো মামলা: বাদী ও তিন শিক্ষকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারী সেখানে গেলে তিনি দেখেন, অভিযুক্ত আইনজীবী একা বসে ফোনে কথা বলছেন। মামলার তারিখ জানতে চাইলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন তিনি। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আইনজীবী জানান, ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার মামলার হাজিরা রয়েছে। এরপর ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন অভিযুক্ত আইনজীবী।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, “উনি ওয়ারীতে আমাদের একই এলাকায় থাকেন। সে কারণে তাকে কাকা বলে ডাকতাম। তার মাধ্যমেই আমার ব্যবসা সংক্রান্ত মামলার জামিন করাই। পরে মামলার তারিখ জানাতে টালবাহানা করছিলেন। ওইদিন অফিসে গেলে তিনি জোর করে ধর্ষণ করেন। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর শুক্রবার পুলিশ অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান জামিন শুনানি না করেই তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবীরা ওকালতনামা দাখিল করেন। তবে আদালত তা আমলে না নিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশু জিআর শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা রয়েল হোসেন বলেন, “আসামিকে গ্রেফতার করে নিয়ম অনুযায়ী আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী নারীকে আলামতসহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *