বাংলাদেশে ই-স্পোর্টস আইনের সম্ভাবনা এবং সমস্যা


ড.মোঃ নায়ীম আলীমুল হায়দার: চলমান সময়ে ইলেকট্রনিক স্পোর্টস বা ই-স্পোর্টস বিশ্বব্যাপী একটি উত্তেজনাপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে, যা প্রতিযোগিতামূলক গেমিংকে বহু বিলিয়ন ডলারের খাতে রূপান্তরিত করেছে। পেশাদার লীগ, টুর্নামেন্ট এবং স্পনসরশিপের মাধ্যমে, ই-স্পোর্টস বিশ্বব্যাপী একটি স্বীকৃত খেলায় পরিণত হয়েছে। দেশের তরুণ, প্রযুক্তি-বুদ্ধিমান জনসংখ্যা এবং ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে ই-স্পোর্টস শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু এই খাতটি যতই বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে ই-স্পোর্টসের জন্য একটি শক্তিশালী আইনিভিত্তি প্রয়োজন। এই প্রবন্ধে বাংলাদেশের ই-স্পোর্টস আইনের ক্ষেত্র এবং সমস্যাগুলো আলোচনা করা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক স্পোর্টস, বা “ই-স্পোর্টস” হল সংগঠিত, প্রতিযোগিতামূলক ভিডিও গেমিংয়ের সংক্ষিপ্ত রূপ যেখানে দল বা ব্যক্তিরা বিভিন্ন ভিডিও গেম শিরোনামে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করে। খেলোয়াড় বা দলগুলি এই ইভেন্টগুলিতে পুরষ্কার, স্বীকৃতি এবং র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য প্রতিযোগিতা করে, যা প্রায়শই লীগ বা টুর্নামেন্ট হিসাবে ঠিক করা হয়।

একটি বিশেষ বিনোদন থেকে শুরু করে ই-স্পোর্টস এখন লক্ষ লক্ষ খেলোয়াড়, দর্শক এবং বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করে। দলগুলি মূলত অর্থ জয়ের লক্ষ্যে টুর্নামেন্টে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করে।এটি প্রচলিত খেলার মতোই কাজ করে। ক্রীড়াবিদরা সর্বদা তাদের পছন্দের খেলা বা খেলায় শীর্ষস্থানের জন্য লড়াই করে।

ই-স্পোর্টসের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য হল, প্রতিযোগিতামূলক গেমিং, পেশাদার খেলোয়াড় এবং দল, টুর্নামেন্ট এবং লীগ, সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ স্ট্রিমিং) এবং দর্শক, স্পনসরশিপ এবং রাজস্ব ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-স্পোর্টসের বেশকিছু তাৎপর্য রয়েছে, যেমন; সাংস্কৃতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক সুযোগ, সম্প্রদায় গঠন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ইত্যাদি।

প্রচলিত আইন থেকে ই-স্পোর্টস আইন অনেকটাই নতুন ধারনা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ই-স্পোর্টস এর ব্যাপক প্রসারের সাথে উক্ত আইনটির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ই-স্পোর্টস আইন হল একটি বিশেষ ধরণের নিয়ম কানুন এবং বিধিবিধান যা ই-স্পোর্টস সম্পর্কিত সমস্ত বিষয় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করে।

এটি খেলোয়াড় এবং দলের চুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ এবং অনুমোদন চুক্তি, গোপনীয়তা, জুয়া নিয়ন্ত্রণ, শ্রম সংক্রান্ত বিষয়, সাইবার নিরাপত্তা, খেলা সংক্রান্ত বিবাদ এবং টুর্নামেন্টের নিয়মের মতো বিভিন্নক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাংলাদেশে ই-স্পোর্টস আইন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং অনেকেই এর তাৎপর্য এখনো অনুধাবন করতে পারছে না। কিন্তু ই-স্পোর্টস আইন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অনেকক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যেমন;

১. স্বীকৃত খেলা হিসেবে ই-স্পোর্টস নিয়ন্ত্রণ

ই-স্পোর্টস আইনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হল ই-স্পোর্টসকে বৈধ খেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া। এই স্বীকৃতি সরকার এবং ক্রীড়া কর্তৃপক্ষকে প্রতিযোগিতামূলক গেমিং উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, তহবিল এবং অবকাঠামো প্রদান করতে সক্ষম করবে। এটি ই-স্পোর্টস ক্রীড়াবিদদের অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের মতো একই সুবিধা প্রদান করবে, যেমন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য ভিসা এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান।

২. খেলোয়াড়ের অধিকার এবং চুক্তি

ই-স্পোর্টস আইন খেলোয়াড়ের অধিকার সম্পর্কিত সমস্যাগুলি সমাধান করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে ন্যায্য চুক্তি, ন্যূনতম মজুরি এবং শোষণ থেকে সুরক্ষা। বাংলাদেশের অনেক তরুণ খেলোয়াড় যথাযথ আইনি নির্দেশনা ছাড়াই এই শিল্পে প্রবেশ করে, যাতাদের অন্যায্য অনুশীলনের ঝুঁকিতে ফেলে। একটি আইনি কাঠামো খেলোয়াড়-দল সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে পারে।

৩. বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার

ই-স্পোর্টস প্রক্রিয়ায় ভিডিও গেমের ব্যবহার জড়িত, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি (আইপি) আইনের বিষয় জড়িত। ই-স্পোর্টস আইন খেলার মালিকানা, সম্প্রচার অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট সম্পর্কিত বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে পারে। এটি বিশেষ করে কন্টেন্ট স্রষ্টা, স্ট্রিমার এবং টুর্নামেন্ট আয়োজকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যারা তাদের জীবিকার জন্য এই অধিকারগুলোর উপর নির্ভর করে।

৪. টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং লাইসেন্সিং

ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় আইন মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রয়োজন। ই-স্পোর্টস আইন টুর্নামেন্ট আয়োজকদের জন্য লাইসেন্সিং প্রয়োজনীয়তা, পুরস্কার বিতরণের নিয়ম এবং ম্যাচ ফিক্সিং এবং প্রতারণা প্রতিরোধের ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারে।

৫. কর্মসংস্থান এবং শ্রম

দল এবং আয়োজকদের সাথে ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়দের মিথস্ক্রিয়ার উপর নির্ভর করে, ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়দের স্বাধীন ঠিকাদার বা কর্মচারী হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে। ন্যূনতম বেতন, কর্মঘণ্টা এবং চুক্তির সমাপ্তিসহ বিষয়গুলি ই-স্পোর্টস আইনের আওতায় আনা যেতে পারে।

৬. ভোক্তা সুরক্ষা

অনলাইন খেলা ক্রয় এবং ক্ষুদ্র লেনদেনের উত্থানের সাথে সাথে, ভোক্তা সুরক্ষা ই-স্পোর্টস আইনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের, লুটবাক্স (এই উপাদানগুলি মানুষকে জুয়া খেলতে উৎসাহিত করে) এবং অননুমোদিত চার্জের মতো শিকারী অনুশীলনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রয়োজন। একটি আইনি কাঠামো নিশ্চিত করতে পারে যে গেমিং কোম্পানিগুলি নৈতিক মান মেনে চলে।

৭. কর এবং রাজস্ব উৎপাদন

ই-স্পোর্টস শিল্পের স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন এবং মিডিয়া অধিকারের মাধ্যমে রাজস্ব উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। ই-স্পোর্টস আইন ই-স্পোর্টস আয়ের জন্য কর নীতিগুলিকে ঠিক করতে পারে, এর মাধ্যমে উক্ত শিল্পের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে।

৮. সাইবার নিরাপত্তা

হ্যাকিং, প্রতারণা এবং ডক্সিং হল সাইবার আক্রমণের উদাহরণ যা ই-স্পোর্টস সিস্টেম এবং টুর্নামেন্টগুলিকে লক্ষ্য করতে পারে। ই-স্পোর্টস আইন যেসব বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে পারে, তারমধ্যে রয়েছে নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা, ঘটনার প্রতিক্রিয়া এবং ডেটা সুরক্ষা।

একটি প্রতিবেদন (রাইজ অফ ই-স্পোর্টস ইন বাংলাদেশ, ডেইলি অবজারভার) থেকে জানা গেছে যে, “বাংলাদেশে ই-স্পোর্টস ল্যান্ডস্কেপ সম্প্রসারিত হচ্ছে, যার পেছনে তরুণ জনসংখ্যা এবং ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেট অ্যাক্সেসিবিলিটি রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মোবাইল গেমিং এই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের ১১৭ জন পেশাদার খেলোয়াড় ১১৬টি প্রতিযোগিতা থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় $২৫৩,৭২৩.৩৭ আয় করেছেন, যার মধ্যে “PUBG মোবাইল” এই আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।”এই শিল্পের সম্প্রসারণ সত্ত্বেও, বাংলাদেশের ই-স্পোর্টস সেক্টর বেশকয়েকটি আইনি এবং অন্যান্য অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে:

১. নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সরকারী স্বীকৃতির অভাব

বাংলাদেশের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSCB) আনুষ্ঠানিকভাবে ই-স্পোর্টসকে একটি খেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এই স্বীকৃতির অভাবের কারণে ই-স্পোর্টস সংস্থা এবং খেলোয়াড়রা প্রচলিত অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের মতো একই সমর্থন এবং সহায়তা পায় না।

২. কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের অভাব

যদিও বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন ও ইলেকট্রনিক ক্রীড়া সমিতি (BYDESA) এর মতো গোষ্ঠীগুলো কাজ করে, তবুও কোনও একক সংস্থা বাংলাদেশে সমস্ত ই-ক্রীড়া সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনার তত্ত্বাবধান করে না। এই বিচ্ছিন্নতার কারণে খেলোয়াড়দের চুক্তি, টুর্নামেন্টের নিয়ম এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতিগুলি অসঙ্গত হয়ে পড়ে।

৩. আইনি অস্পষ্টতা

যেহেতু ই-স্পোর্টস বর্তমান আইনি কাঠামোর আওতায় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই সম্প্রচার অধিকার, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার এবং অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণকারী আইনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে অস্পষ্টতা রয়েছে।

৪. প্রতিযোগিতা পরিকল্পনার অসুবিধা

ই-স্পোর্টস প্রতিযোগিতার পরিকল্পনা করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, বিশেষ করে যখন খেলা নিষিদ্ধ থাকে বা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত না হয়।

৫. অর্থনৈতিক বিধি নিষেধ

আন্তর্জাতিক নিয়মের তুলনায়, বাংলাদেশি ই-স্পোর্টসে আর্থিক প্রণোদনা বেশ কম। এই বৈষম্য ভবিষ্যতের প্রতিভাদের বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য তহবিল সীমিত করতে পারে।

৬. জ্ঞানের অভাব

অনেক ব্যক্তি, এমনকি আইন প্রণেতা এবং আইনজীবীরাও ই-স্পোর্টস সম্পর্কিত আইনি নিয়ম, প্রক্রিয়া এবং তা বাস্তবায়ন সম্পর্কে তেমন অবগত নন। এর ফলে ই-স্পোর্টস আইন তৈরি, সংশোধন এবং বাস্তবায়ন নিয়ে সমস্যা হতে পারে।

৭. দ্রুত বিবর্তন

ই-স্পোর্টস সেক্টরে নতুন নতুন খেলা, প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক মডেল ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। এর ফলে উপযুক্ত আইন তৈরি করা এবং বিদ্যমান আইন সংশোধন করে পরিস্থিতি মোকাবেলা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।

৮. বৈশ্বিক প্রকৃতি ও জটিলতা

বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, দল এবং সংস্থাগুলি প্রায়শই ই-স্পোর্টসে অংশগ্রহণ করে। এর ফলে এখতিয়ার, প্রাসঙ্গিক আইন এবং রায় প্রয়োগের বিষয়ে জটিল আইনি প্রশ্নের জন্ম হতে পারে।

ই-স্পোর্টস আইনে খেলোয়াড়দের অধিকার, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষা, টুর্নামেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা সুরক্ষাসহ বিস্তৃতবিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে নানা সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে ই-স্পোর্টস আইনের বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, এর মধ্যে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থেকে শুরু করে সমাজের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবন্ধকতা, সচেতনতার অভাব এবং আইনি অস্পষ্টতা ইত্যাদি। ই-স্পোর্টসের তথা ই-স্পোর্টস আইন সম্ভাবনা সর্বাধিক করার এবং বর্তমান সমস্যাগুলি সমাধান করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা যেতে পারে:

১. আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি

এনএসসিবি কর্তৃক ই-স্পোর্টসকে একটি অফিসিয়াল খেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুন তৈরি, আর্থিক সম্ভাবনা এবং সংগঠিত উন্নয়ন সবকিছুই এই স্বীকৃতির মাধ্যমে সম্ভব হবে।

২. একটি কেন্দ্রীয় পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তৈরি

ই-স্পোর্টস পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীভূত সংস্থা তৈরি করলে নিয়মকানুন, খেলোয়াড়দের কল্যাণ এবং ইভেন্ট পরিকল্পনায় ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যেতে পারে। এই সংস্থা স্বাধীনভাবে বা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্বের অধীনে কাজ করতে পারে।

৩. বিশেষ আইন প্রণয়ন

ই-স্পোর্টের বিশেষত্বের সাথে বিশেষভাবে মানানসই নিয়ম কানুন তৈরি করে, খেলোয়াড়দের অধিকার, অনলাইন লেনদেন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সম্পর্কে উদ্বেগগুলি সমাধান করা যেতে পারে। স্পষ্ট নিয়ম বা বিধি করা হলে জুয়া এবং দক্ষতা-ভিত্তিক ই-স্পোর্টসের মধ্যে পার্থক্য করা সহজ করে তুলতে পারে।

৪. বর্তমান আইন সংশোধন

ই-স্পোর্টের সাথে সম্পর্কিত অনেক বিষয় রয়েছে যা অনেক বিদ্যমান আইনের সাথে সম্পর্কিত। তবে, বিদ্যমান আইনগুলিতে ই-স্পোর্টস সম্পর্কে কোনও বিধান পাওয়া যায় না। সেই আইনগুলি সংশোধন করা যেতে পারে। উল্লেখযোগ্য আইনগুলির মধ্যে কয়েকটি হল, চুক্তি আইন, শ্রম আইন, কপিরাইট আইন, ট্রেডমার্ক আইন, ভোক্তা সুরক্ষা আইন, কর আইন, সাইবার আইন এবং অন্যান্য সম্পর্কিত আইন।

৫. জনশিক্ষা এবং সচেতনতা

ই-স্পোর্টসের সম্ভাবনা সম্পর্কে অভিভাবক এবং শিক্ষকসহ সাধারণ জনগণকে অবহিত করার প্রচেষ্টা মনোভাব পরিবর্তন করতে এবং দায়িত্বশীল অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে সহায়তা করতে পারে। বাংলাদেশে, ই-স্পোর্টস ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও সামাজিক কলঙ্কের সম্মুখীন হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন গেমিং সময়ের অপচয় বা তরুণদের জন্য খারাপ। শিল্পটি সাধারণ জনগণের কাছ থেকে সমর্থন এবং অনুমোদন পেতে হলে, এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।

৬. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক ই-স্পোর্টস গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে, বাংলাদেশী খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রবেশাধিকার পেতে পারে, দক্ষতা বিনিময় করতে পারে এবং সর্বোত্তম অনুশীলন সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করতে পারে।বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে হবে কারণ ই-স্পোর্টস একটি বিশ্বব্যাপী শিল্প। এর মধ্যে রয়েছে ডোপিং-বিরোধী নিয়ম, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন এবং বিদেশী খেলোয়াড় এবং প্রতিযোগিতার জন্য ভিসার নিয়ম মেনে চলা।

বাংলাদেশে ই-স্পোর্টস আইন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, ই-স্পোর্টস খাতের বিকাশের জন্য উক্ত আইন অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ই-স্পোর্টস আইন বাংলাদেশে ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়, দল এবং সংস্থাগুলির জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত, প্রতিযোগিতামূলক এবং টেকসই পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি, চুক্তি, শ্রম, গেমিং নিয়ম এবং সাইবার নিরাপত্তা।

বাংলাদেশ যদি ই-স্পোর্টসকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপ্রদান করে তবে বিদ্যমান সমস্যাগুলি মোকাবেলা করে এবং উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। এর মাধ্যমে, জাতি আন্তর্জাতিক ই-স্পোর্টস দৃশ্যে নিজেকে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং দেশের তরুণদের এই দ্রুতগতির খাতে সাফল্যের সুযোগ দিতে পারে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, আইন বিভাগ, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি (বাইউস্ট)। ই-মেইল:[email protected]



Source link

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *