অধস্তন আদালতের বিচারকদের মতামত চেয়েছে সংস্কার কমিশন


আপনি কেমন বিচার ব্যবস্থা চান? আদালতের নথিপত্র, আদেশ, রায় কোন ভাষায় হলে বিচার প্রার্থীদের জন্য অনুকূল? মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা বন্ধে কী করা উচিত? —এমন ৫০ এর অধিক বিষয়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের কাছ থেকে মতামত চেয়েছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) এর মধ্যে এ বিষয়ে মতামত দিতে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনের সই করা এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিচার বিভাগকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। বিচার বিভাগ সংস্কারের বিষয়ে অংশীজনদের মতামত সংগ্রহের জন্য কমিশন একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে।

ওয়েবসাইটে বিভিন্ন শ্রেণির জনগোষ্ঠী বা অংশীজনদের মতামত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পৃথক প্রশ্নমালা সন্নিবেশিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য (জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) প্রযোজ্য প্রশ্নমালা পূরণ করে তাদের মতামত দেওয়ার জন্য বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন অনুরোধ করেছে।

কমিশনের দেওয়া প্রশ্নমালা ছাড়াও বিচার বিভাগ সংস্কারের বিষয়ে কারো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকলে ওই প্রস্তাবের মুদ্রিত অনুলিপি কমিশনের ঠিকানায় পাঠানোর জন্য কমিশন অনুরোধ করেছে।

এ অবস্থায় বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য দেওয়া নির্ধারিত প্রশ্নমালা পূরণসহ বিচার বিভাগ সংস্কারের বিষয়ে কারো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা মতামত থাকলে তা ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠাতে অনুরোধ করা হলো।”

বিচারকদের কাছ থেকে যেসব বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে

প্রভাবমুক্ত থেকে বিচার, নির্বাহী বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিচারকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক তথা ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থা, বিচারকদের নিয়োগ, অপসারণ, পদোন্নতি, বদলি প্রক্রিয়া, আবাসন, পরিবহন, নিরাপত্তা, বিচারক-আইনজীবীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা দূরীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নারী বিচার প্রার্থীদের জন্য বিচার ব্যবস্থা, ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট থাকা উচিত কি না —এমন পঞ্চাশটির অধিক বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছে।



Source link

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *