সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা


সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর মধ্যদিয়ে আবারও সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল হবে না বলেও জানান আদালত।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে। রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

এর আগে এই সংক্রান্ত দুটি রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৫ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে দেয়। সেই মোতাবেক হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের আজ মঙ্গলবারের (১৭ ডিসেম্বর) কার্যতালিকার এক ও দুই নম্বর ক্রমিকে দুটি রিট আবেদন রায়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এরও আগে গত ৪ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি রিটের শুনানি শেষ হয়। রিটে পক্ষভুক্ত হয় বিএনপি, জামায়াতসহ কয়েকটি সংগঠন। প্রায় সবাই তত্ত্ববধায়ক সরকার বহালের পক্ষে মত দেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার। অবৈধভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করলে রাষ্টদ্রোহিতার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয় এ সংশোধনীর মাধ্যমে।

এছাড়া সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনে বিধান আনা হয়, যা আগে ছিল সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার। এরকম ছোট বড় ৫৫টি সংশোধনী আনা হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে।

এছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।

এ সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। গত ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে।

পরে এ রুল সমর্থন করে সহায়তাকারী (ইন্টারভেনার) হিসেবে যুক্ত হন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণফোরাম, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা। তাদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এছাড়া নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও রিট করেন।



Source link

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *