‘সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ’ অভিযোগ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রত্যাহারের দাবি মাসদার হোসেনের
নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ‘সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ’ সংক্রান্ত সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মোঃ মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কর ফাঁকি মামলায় বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হলেও বাস্তব ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সেখানে প্রকৃত তথ্য বিকৃত করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভ্যাট নিষ্পত্তির জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির লিগ্যাল অফিসার মোঃ জামাল হোসাইনের অভিযোগে উল্লিখিত এই তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং অতিরঞ্জিত।
তিনি বিষয়টির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে বলেন, নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রথমে ৩ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ১৬৬ টাকা ৮৪ পয়সা কর জরিমানা নির্ধারণ করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি যথাযথভাবে কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল আদেশটি বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিমান্ডে পাঠায়।
রিমান্ডের পর পুনর্বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ ভ্যাট ফাঁকি বাবদ ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা এবং সুদসহ মোট ৫৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭০ টাকা আরোপ করে। পরবর্তীতে তিনি আবার আপিল করলে ট্রাইব্যুনাল সুদের অংশ মওকুফ করে মূল ভ্যাটের পরিমাণ বহাল রাখে।
এরপর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি মহামান্য হাইকোর্টে ভ্যাট আপিল (VAT Appeal ANTI No. 2030, তারিখ: ১২ মার্চ ২০২৬) দায়ের করেন এবং আইন অনুযায়ী ১০ শতাংশ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই মামলায় মোট ২৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে, যেখানে সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী মোট পাওনা ছিল ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা।
আরও পড়ুন : আইনজীবী মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে ১.২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যেখানে মোট পাওনার পরিমাণই ৪২ লাখ টাকার কিছু বেশি, সেখানে কীভাবে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়?”
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মামলার প্রক্রিয়ায় তিনি তার চেম্বারের সহযোগী অ্যাডভোকেট ফাতহুল বারীর মাধ্যমে পরিচিত অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের কাছে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা, আইনজীবী ফি ও অন্যান্য খরচ বাবদ মোট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
তবে তার অভিযোগ, অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজের নামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, পল্টন শাখার দুটি হিসাবে ৩৫ লাখ টাকা জমা এবং ৪০ লাখ টাকা এফডিআর করেন, যা স্পষ্ট তসরুপের শামিল।
এই অনিয়মের বিরুদ্ধে নুর প্লাস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৎকালীন ম্যানেজার মোঃ আশরাফুল ইসলাম ২৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন বলে জানান তিনি।
অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে একটি দরখাস্ত দায়ের করা হলেও আজ পর্যন্ত তাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্ত ছাড়াই বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে, যা তার কাছে বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, দরখাস্তকারী পক্ষও তাকে কোনো নোটিশ না দিয়ে সরাসরি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেছে, যা আইনগত প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং তাকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের বিভিন্ন সংস্কার বিষয়ক বক্তব্য দেওয়ার পরদিনই তার বিরুদ্ধে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা তার সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রত্যাহার করে সঠিক ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি নিজের সম্মান ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
Source link
tags]
Leave a Reply