শ্রম আপীল ট্রাইবুনাল ও শ্রম আদালতের জনবল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত: হাইকোর্টে রুল


শ্রম আপীল ট্রাইবুনাল ও দেশের সকল শ্রম আদালতে গ্রেড ১৩ থেকে ২০ পদে জনবল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট ডিভিশন। একই সঙ্গে এসব পদে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ‘নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে জারি করা পত্রটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রুল নিশি জারি করা হয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড এস এম আরিফ মন্ডল

গতকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রিট পিটিশনটি ইন রি মোশন আকারে শুনানির জন্য উপস্থাপিত হলে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে শ্রম আপীল ট্রাইবুনাল ও শ্রম আদালতসমূহের গ্রেড ১৩-২০ পদের ‘নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে জারি করা পত্রটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রুল নিশি জারি করেন।

একই সঙ্গে আদালত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কর্তৃক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত শ্রম আপীল ট্রাইবুনাল ও শ্রম আদালতসমূহের গ্রেড ১৩-২০ পদে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত পরবর্তী সকল কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

রিটকারীর সঙ্গে আলোচনায় জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সকল শ্রম আদালত ও শ্রম আপীল ট্রাইবুনালে গ্রেড ১৩-২০ পদে জনবল নিয়োগ দিত সংশ্লিষ্ট শ্রম আদালত ও শ্রম আপীল ট্রাইবুনাল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন : মাদক মামলায় অন্যের বদলে কারাভোগ করতে এসে ধরা, ফিঙ্গারপ্রিন্টে ফাঁস ‘আয়নাবাজি’

তবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত ২১ মে ২০২৫ তারিখের একটি পত্রের মাধ্যমে হঠাৎ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এসব পদের ‘নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

উক্ত পত্রে উল্লেখ করা হয় যে, শ্রম অধিদপ্তর, নিম্নতম মজুরি বোর্ড, শ্রম আদালত এবং শ্রম আপীল ট্রাইবুনাল (কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০২২ এর ১(গ) ধারা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত মতামতের আলোকে সচিবকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে।

এস এম আরিফ মন্ডল আরও জানান, শ্রম আদালতের মামলায় সাধারণত তিনটি পক্ষ থাকে। শ্রমিক পক্ষ, মালিক পক্ষ এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিজেই একটি পক্ষ হিসেবে যুক্ত থাকে।

এ অবস্থায় শ্রম আদালত ও শ্রম আপীল ট্রাইবুনালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যদি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হন, তাহলে যেসব মামলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পক্ষ থাকে, সেসব মামলার রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকিতে নিয়োজিত কর্মচারীরা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রভাবাধীন হতে পারেন।

এর ফলে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফেয়ার ট্রায়াল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং শ্রমিক পক্ষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে, যা পক্ষপাতিত্বের উদ্ভব ঘটাতে পারে। এটি স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠিত নীতির পরিপন্থী।

আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, কেউ নিজের মামলার বিচারক হতে পারেন না। অথচ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যখন নিজেই শ্রম আদালতের কিছু মামলায় পক্ষ হিসেবে যুক্ত থাকে, তখন সেই মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করা উক্ত নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *