বিচারকদের ফেসবুক ব্যবহারে কঠোর হুঁশিয়ারি নতুন প্রধান বিচারপতির
ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো বিচারক এই নিয়ম লঙ্ঘন করেন এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সেদিনই হবে তার বিচারিক জীবনের শেষ দিন।
গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে দেশের সব পর্যায়ের জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি এই হুঁশিয়ারি দেন। দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই ছিল অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণ।
বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিচারের আসনে বসে দুর্নীতি বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাকে চড়ামূল্য দিতে হবে।”
মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নির্দেশ দেন যে, শুনানি শেষ হওয়ার তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রায় প্রকাশ করতে হবে। রায় প্রদানে বিলম্ব হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে এবং আদালতের সময় অপচয় হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আদালত প্রাঙ্গণের পরিবেশ রক্ষায়ও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষ ছাড়া কোনো বহিরাগত যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে। আদালত প্রাঙ্গণে হকার বা ভাসমান বিক্রেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আইনজীবীদের ড্রেসকোড মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিচারকদের নির্দেশ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি এবং ২৮ ডিসেম্বর তিনি শপথ গ্রহণ করেন। বর্তমানে নিম্ন আদালতে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস সময় এবং সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিচারিক কর্মঘণ্টা নির্ধারিত রয়েছে।
Source link
tags]
Leave a Reply