আদালত পাশ কাটিয়ে সরাসরি কারাগারে আসামি পাঠানো: র‍্যাব ও জেল সুপারকে ৭ দিনের মধ্যে কারণ ব্যাখ্যার নির্দেশ


ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভুলবশত মুক্তিপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করে আদালতে হাজির না করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছেন আদালত

মঙ্গলবার (০২ ফেব্রুয়ারি) ময়মনসিংহের ১নং জি.আর আমলী আদালতের বিচারক ও অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উপেন্দ্র চন্দ্র দাস এ আদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জি.আর-২৪১/২৫ (তারাকান্দা) মামলার তিন আসামি জাকিরুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম ও আনিছ মিয়া গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালতের কোনো আদেশ বা জামিন ছাড়াই ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভুলবশত মুক্তি পান

পরবর্তীতে জেল কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহ ওই তিন আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কারাগারে হস্তান্তর করে।

আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৩(২) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা একটি মৌলিক অধিকার

একই সঙ্গে গ্রেফতারের সময়

  • মেমোরেন্ডাম অফ এরেস্ট প্রস্তুত করা

  • সাধারণ ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করা

  • সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা

আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন যে, পুনরায় গ্রেফতারের পর

  • আসামিদের কোথা থেকে এবং কখন গ্রেফতার করা হয়েছে

  • কত সময় তারা র‍্যাবের হেফাজতে ছিলেন

  • কেন থানায় হাজির না করে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়েছে

এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মামলার নথিতে অনুপস্থিত, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল।

এই প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৭এ ধারার আলোকে গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধান কেন যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হয়নি এবং কেন আসামিসহ থানায় এজাহার দায়ের করা হয়নি, সে বিষয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।

এ জন্য র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহের অধিনায়ক এবং ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আসামিদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন শুনানির জন্য আজ (৩ ফেব্রুয়ারি) তারিখ ধার্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *