আইনজীবী মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে ১.২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ ও বর্তমান আইনজীবী মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে ১.২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট মামলা ‘সেটেল’ করার নামে টাকা নিলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি, যার ফলে কোম্পানির বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মো. জামাল হোসেন ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১২-২০১৩ সালে বিভিন্ন কিস্তিতে মাসদার হোসেনকে মোট ১.২ কোটি টাকা দেওয়া হয়।

২০১২ সালের ১৭ মে যশোর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নূর প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে ১,০২,৬৯,৭২২.২৮ টাকার ভ্যাট দাবি ওঠে। কোম্পানির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারী মামলা চ্যালেঞ্জ করতে অ্যাডভোকেট মাসদার হোসেনকে নিয়োগ করেন।

অভিযোগ অনুসারে, মাসদার হোসেন ভ্যাট দায় শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য ১.৯ কোটি টাকা দাবি করেন।

আরও পড়ুন : জামিনের পরও ২৫ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ: চট্টগ্রাম কারাকর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ

কোম্পানি পর্যায়ক্রমে চেকের মাধ্যমে ১ কোটি টাকা প্রদান করে। পরে ভ্যাট আপিল প্রক্রিয়ায় আরও ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তবে মাসদার হোসেন অভিযোগ অনুসারে কোনো প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেননি এবং মামলার আপডেটও দেননি।

পরবর্তীতে অন্য এক আইনজীবীর মাধ্যমে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং কোম্পানির উপর ৪২,০৯,২৭৩ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, ১.২ কোটি টাকা নেওয়া সত্ত্বেও আইনজীবী চুক্তি অনুসারে দায়িত্ব পালন করেননি, যার ফলে কোম্পানির ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মাসদার হোসেন কোম্পানির অন্য দুটি বিচারাধীন মামলায় ‘নো-অবজেকশন’ সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন : হাম টিকা দুর্নীতি অভিযোগে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলন জানান, অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন মঞ্জুর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হুমায়ুন মঞ্জু বলেন, “অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা প্রতারণা ও দুর্নীতির পর্যায়ে পড়তে পারে। মাসদার হোসেন সুপরিচিত ব্যক্তি হওয়ায় আমরা বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখছি।”

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত।

“এ পর্যায়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই,” বলেন তিনি।

মাসদার হোসেন বলেন, মামলাটি তাঁর জুনিয়র আইনজীবী ফাতেহুল বারীর ছিল এবং তিনি শুধু ফাইলিং আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। চেকগুলো তাঁর নামে ইস্যু হয়েছিল এ কারণে।

তিনি দাবি করেন, টাকা তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উত্তোলন করে অন্য এক আইনজীবী দেলোয়ারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে—যা তাঁর চেম্বারে কোম্পানির ম্যানেজারসহ অন্যদের উপস্থিতিতে হয়েছে।

সূত্র : নিউ এজ



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *