হলফনামার বৈধতা নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রধান বিচারপতির কাছে গাইডলাইন চেয়ে আইনজীবীদের আবেদন


হাইকোর্ট বিভাগে দাখিলকৃত রিট, সিভিল ও ক্রিমিনাল মামলার হলফনামার (affidavit) বৈধতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বেঞ্চের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের একদল আইনজীবী।

হলফনামার বৈধতা সংক্রান্ত এই বিভ্রান্তি নিরসনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা (Guideline) জারির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের এসব আইনজীবীরা।

আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, মুহাম্মদ হাসিবুর রহমান, ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, সারওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কাউসারসহ প্রায় দেড়শ আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে দেওয়া লিখিত আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩ এর Chapter-IVA এর বিধি ৪, ৫ ও ৬ অনুযায়ী হলফনামার বৈধতা নির্ধারিত রয়েছে।

আবেদনে রুলস অনুযায়ী বিধানগুলো এভাবে তুলে ধরা হয়:

রিট মামলার ক্ষেত্রে, বিধি ৪(৪) অনুযায়ী, হলফনামা শপথ গ্রহণের পর ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে রিট আবেদন উপস্থাপন করতে হবে।

সিভিল মামলার ক্ষেত্রে, বিধি ৫(৬) অনুযায়ী, হলফনামা শপথ গ্রহণের পর ৪৫ দিনের মধ্যে উপযুক্ত বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারের কাছে আবেদন বা মোশন দাখিল করতে হবে।

ক্রিমিনাল মামলার ক্ষেত্রে, বিধি ৬(৬) অনুযায়ী, হলফনামা শপথ গ্রহণের পর ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন বা মোশন দাখিল করতে হবে।

তবে আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চ হলফনামার বৈধতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে, রুলস অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা দাখিল এবং পূর্বে ডেইলি কজলিস্টে ওঠার পরও হলফনামা শপথ গ্রহণের ৩০ বা ৪৫ দিন অতিক্রান্ত হওয়ায় মামলাগুলো খারিজ, ডিলিট অথবা শুনানিতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে।

এর ফলে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আদালত অঙ্গনে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবীরা বলেন, এই গুরুতর সমস্যা নিরসনের জন্য মাননীয় প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে একটি স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক গাইডলাইন জারি করা একান্ত প্রয়োজন।

এ প্রেক্ষিতে, সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস অনুযায়ী হলফনামার বৈধতা বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করে নির্দেশনা জারির জন্য প্রধান বিচারপতির সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *