শিশু যৌন শোষণ নেটওয়ার্কের অভিযোগে বাংলাদেশি তরুণ যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর


আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশু যৌন শোষণের নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশি তরুণ জোবাইদুল আমিনকে (২৮) মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

গত বুধবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তার প্রথম হাজিরা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মার্কিন সরকারি অ্যাটর্নি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই মাসে আলাস্কার একটি গ্র্যান্ড জুরি আমিনের বিরুদ্ধে ১৩টি পৃথক ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানাতেন এবং তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যৌন স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিশেষ করে InstagramSnapchat ব্যবহার করে শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন এবং পরে বিভিন্ন কৌশলে তাদের কাছ থেকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতেন।

তদন্তকারীদের দাবি, আমিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুধু আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল।

আরও পড়ুন : চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপিপন্থিদের জয়

মামলার নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণের ষড়যন্ত্র, শিশু শোষণমূলক চক্র পরিচালনা, সাইবারস্টকিং, পরিচয় জালিয়াতি এবং ওয়্যার জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে তিনি মালয়েশিয়ার একটি মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করছিলেন। ২০২২ সালে সেখানে তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ওঠে। পরে দুই দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দীর্ঘ সমন্বয়ের মাধ্যমে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

মার্কিন অ্যাটর্নি এস লেইন এ ঘটনাকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে শিশুদের যৌনভাবে শোষণ করা একটি জঘন্য অপরাধ, যা বহু শিশুর শৈশব কেড়ে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর এই যৌথ অভিযান প্রমাণ করে যে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ভৌগোলিক সীমানা কোনো বাধা নয়।

Federal Bureau of Investigation বা এফবিআইয়ের অ্যাঙ্করেজ ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ অ্যান্টনি জাং জানিয়েছেন, এই চক্রের মাধ্যমে শত শত শিশুকে টার্গেট করা হয়েছিল। যারা ছবি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাত, তাদের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।

ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে আমিনের সাজা ২০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে মামলাটি এফবিআইয়ের শিশু শোষণ ও মানব পাচারবিরোধী টাস্ক ফোর্সের একটি বড় তদন্তের অংশ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *