লক্ষ্মীপুরে জেলা জজের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক, ডিজিএফআই পরিচয়ে ফোন করে প্রতারণা
লক্ষ্মীপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক করে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। নিজেকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এর করপোরাল পরিচয় দিয়ে ফোন করে কৌশলে তথ্য নিয়ে তাঁর নম্বর হ্যাক করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত বুধবার (৪ মার্চ) বেলা সোয়া দুইটার দিকে বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একটি কল আসে। কলকারী নিজেকে ডিজিএফআইয়ের করপোরাল পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমি ডিজিএফআইয়ের করপোরাল বলছি। আপনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানসহ উচ্চপদস্থ বিভিন্ন ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করে মেসেজ দিয়েছেন।”
এ ধরনের কথা শুনে বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন বিস্মিত হন এবং বিষয়টি জানতে চেয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। একপর্যায়ে কলকারী জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের মাধ্যমে মূল দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করা হবে।
এরপর তিনি বিচারককে বলেন, “আমরা মেসেজ দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত করে মূল দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করব। আপনার মোবাইলে কিছু তথ্য আমাদের দিন। এরপর আপনার ফোন বন্ধ করে রাখুন।”
আরও পড়ুন : জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে হাইকোর্টের রুল
বিচারক তাঁর কথামতো কিছু তথ্য দেওয়ার পর ফোন বন্ধ করে রাখেন। পরে দেখা যায়, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক হয়ে গেছে।
হ্যাক হওয়ার পর ওই নম্বর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জরুরি প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে কয়েকজন ব্যক্তি সরাসরি বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখনই বিষয়টি প্রকাশ পায় যে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হ্যাক হয়েছে।
ঘটনার পর ওই দিন বিকেলেই লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত নাজির মো. জহিরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ঘটনার পরপরই বিচারক বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট নম্বর ট্র্যাকিং এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সুপার বলেন, “প্রতারণার ফাঁদে পা না দিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় পরিচিত বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করেই প্রতারকরা টাকা চায়। এমন পরিস্থিতিতে টাকা পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। তাই এ ধরনের ফোন কল বা বার্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Source link
tags]
Leave a Reply