‘মামলা জট কমাতে মিথ্যা মামলা দায়ের বন্ধ করতে হবে’


নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেওয়া সংবর্ধনায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, ‘আদালতের মামলা জট কমাতে হলে, মিথ্যা মামলা দায়ের বন্ধ করতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ১ নং এজলাস কক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আজ দেওয়া সংবর্ধনায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিচার বিভাগকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। সিন্ডিকেট মুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মানের লক্ষ্যে বিচার বিভাগের প্রতি নতুন প্রজন্ম এবং গণমানুষের যে আশা আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটানো অত্যাবশ্যক।

ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা আশা করি, আপনি বিচার বিভাগকে প্রভাবমুক্ত করে সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করবেন। নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। মামলা পরিচালনার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করবেন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। সমাজের সকল স্তরে বৈষম্য দূর করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবেন। গত ১৬ বছরের গুম, হত্যা, মিথ্যা মামলার ব্যাপারে আপনি আমলে আনবেন।

তিনি প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে আরও বলেন, বিচার বিভাগের যে কোন সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে, দূর্নীর্তি বন্ধ করতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন ভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ও বিচার বিভাগকে সংস্কারের মধ্য দিয়ে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ হাঁটছে, সেই যাত্রায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিকে সব সময় আপনার পাশে পাবেন।

আরও পড়ুন : শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূলের আহ্বান

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে দেওয়া আজকের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, সিনিয়র আইনজীবী, সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৬১ সালের ১৮ মে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।

তার পিতা প্রয়াত বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন এবং মাতা বেগম সিতারা চৌধুরী ছিলেন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৭৯ সালে নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

এরপর তিনি সেখান থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হাল-এ মানবাধিকার বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করেন।

১৯৮৫ সালের ৩ মার্চ জুবায়ের রহমান চৌধুরী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত আইনজীবী হয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতে আইনপেশা শুরু করেন।

১৯৮৭ সালের ১৭ মে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হন জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহন করেন। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি হন।

গত ২৮ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *