নতুন মন্ত্রিসভায় আলোচনায় একঝাঁক আইনজীবী


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র ও অন্দরমহলের গুঞ্জন অনুযায়ী, আসন্ন মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনি দক্ষতাসম্পন্ন নেতাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। নির্বাচন-পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও আইনগত বিষয় মোকাবিলায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৪ থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান এবং নোয়াখালী-১ থেকে জয়ী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন-এর নামও সম্ভাব্য মন্ত্রিপরিষদে রয়েছে।

এ ছাড়া আইন অঙ্গনের আলোচিত মুখ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

দীর্ঘ সময় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা আইনজীবীদেরও এবার পুরস্কৃত করা হতে পারে। আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। এছাড়া সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

আরও পড়ুন : কতজন আইনজীবী এমপি হলেন, কারা জিতলেন

জোট রাজনীতির অংশ হিসেবে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নাম আলোচনায় রয়েছে। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে চট্টগ্রাম-৫ থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিনের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে।

নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নাটোর-১ থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া এবং অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর পাশাপাশি আইনি ও নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পাহাড় ও সমতলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, সাচিং প্রু চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মতো নেতাদেরও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আলোচিত তালিকাটি এখনো দলীয়ভাবে অনুমোদিত নয়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মনোনয়ন ও দলীয় সিদ্ধান্তে যদি অভিজ্ঞ আইনজীবীদেরদের বড় পরিসরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে নতুন মন্ত্রিসভা আইন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে পারে।

সবকিছু নির্ভর করছে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার ওপর। এখন অপেক্ষা—কারা শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবনে শপথ নেবেন।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *