কারাবন্দী ব্যারিস্টার সুমনের মুক্তি চেয়ে স্ত্রীর আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট


সত্য, ন্যায় এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য হিসেবে বিনা অপরাধে ১৬ মাস ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন—এমন অভিযোগ তুলে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, তাঁর স্বামী আজ যে অবস্থায়, তা শুধু শারীরিক কষ্ট নয়; এটি এক ধরনের মানসিক নির্যাতনও।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, তাঁর স্বামী সত্যের পথে চলেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন এবং মানুষের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন থেকেছেন। অথচ সেই সত্যের মূল্য হিসেবেই আজ তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে।

স্ট্যাটাসে ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন, কীভাবে তাঁর স্বামী ব্যক্তিগত অর্থ, সময় ও শ্রম দিয়ে সমাজের জন্য কাজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন—

  • দেশের বড় বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যখন কেউ কথা বলার সাহস পায়নি, তখন একাই তিনি রুখে দাঁড়িয়েছেন।

  • নিজে বাদী হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

  • শীতকালে গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন।

  • পরিবেশ রক্ষায় গরমকালে ফলজ ও বনজ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ গাছের চারা বিতরণ করেছেন।

  • ২০২২ সালের সিলেট বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করেছেন এবং পরবর্তীতে নিজস্ব অর্থায়নে ১০০টি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন।

  • ২০২০ সালের করোনাকালে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন।

  • করোনার সময় নিজের বাড়ি ও গাড়ি চিকিৎসকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, যাতে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারেন।

  • চা-শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সাহসের সঙ্গে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হুইলচেয়ার দিয়েছেন।

  • নিজস্ব অর্থায়নে অসংখ্য রাস্তাঘাট সংস্কার করেছেন।

  • নিজস্ব অর্থে এমন সংখ্যক ব্রিজ নির্মাণ করেছেন, যা ওই এলাকার আর কেউ কখনো করেননি।

  • অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

  • যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল ছিল না, সেখানে নিজ খরচে টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন।

  • অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করতে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছেন।

  • নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছেন।

  • ফুটবল একাডেমি গঠন করে দেশের গুমন্ত ফুটবলকে জাগ্রত করেছেন এবং বিভিন্ন জেলায় খেলাধুলার আয়োজন করে মানুষের মুখে আনন্দ ফিরিয়েছেন।

  • জনস্বার্থ ও দেশের স্বার্থে অসংখ্য মামলা দায়ের করেছেন।

  • অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন।

  • ফ্রি চিকিৎসা ও মেডিকেল সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যারিস্টার সুমন ছিলেন একমাত্র সংসদ সদস্য, যিনি এমপি হিসেবে সরকার থেকে কী কী সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় এবং রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ হিসেবে ঠিক কত টাকা আসে—তা কোনো রাখঢাক না করে প্রকাশ্যে জনগণের সামনে তুলে ধরেছিলেন।

স্ত্রীর ভাষায়, “যে মানুষ নিজের জীবন, সময় ও অর্থ উৎসর্গ করেছেন মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য, তাঁর সঙ্গে যদি এভাবে আচরণ করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে সাহস পাবে?”

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটকে রাখা শুধু শারীরিক নয়, এটি গভীর মানসিক নির্যাতনেরও একটি রূপ।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লেখেন, সব কিছুর পরও তিনি বিশ্বাস করেন—ন্যায় একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। তাঁর স্বামী মুক্তি পাবেন—এই প্রত্যাশা ও বিশ্বাস তিনি ধরে রেখেছেন। তিনি সবাইকে তাঁর স্বামীর মুক্তির জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন— “হে আল্লাহ, আমার নিরপরাধ স্বামীকে দ্রুত মুক্তি দাও। আমাদের সংসার আবার পূর্ণ করে দাও। আমিন।”

সবশেষে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তিনি তাঁর স্বামীর নিঃশর্ত মুক্তি চান।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *