আজ ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের জন্মদিন
আজ ২ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রচয়িতা, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য, প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম–এর জন্মদিন।
১৯৩৬ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আইনব্যবস্থার ইতিহাসে এক অনন্য নাম। ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সাধারণ ইতিহাসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন, লন্ডন থেকে ১৯৬১ সালে ব্যারিস্টার হিসেবে বার-এ কল প্রাপ্ত হন। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় আইনজীবন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রাক্কালে উত্তাল সময়ে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া করেন, যাকে তিনি নিজেই বাংলাদেশের “জন্মসনদ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে ১৯৭৩–৭৪ সময়কালে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
আইন অঙ্গনে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইন প্রতিষ্ঠান Amir & Amir Law Associates–এর হেড অব চেম্বার্স। সাধারণ আইন, কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক আইন, সংবিধানিক আইন, ব্যাংকিং আইনসহ বহু ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা সুপ্রতিষ্ঠিত। মেধাস্বত্ব, ব্যাংকিং ও সামুদ্রিক মামলা, সংবিধানিক আইন এবং জুডিশিয়াল রিভিউ—সব ক্ষেত্রেই তিনি একজন প্রথিতযশা ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃত।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি জাহানারা আমীরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাদের তিন সন্তান—কন্যা ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, যিনি Amir & Amir Law Associates–এর সিনিয়র ও ম্যানেজিং পার্টনার; পুত্র আদিল ইসলাম, একজন ব্যাংকার; এবং পুত্র জায়েদ ইসলাম, একজন আলোকচিত্রী।
ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের জীবন ও অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং পরবর্তী আইনগত বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাঁর নিষ্ঠা, মেধা ও ঐতিহাসিক ভূমিকা আজও আইন অঙ্গনসহ সমাজের নানা স্তরে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
Source link
tags]
Leave a Reply