আইন ও বিচার নিয়ে বিতর্ক ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারকদের গড়বে: বিচারপতি মাহবুব উল ইসলাম


আইন ও বিচার বিভাগের বিষয় নিয়ে বিতর্ক আয়োজন ভবিষ্যৎ আইনজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের চিন্তাশক্তি বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হক ল’ একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইন্টার ইউনিভার্সিটি ডিবেট অন লিগ্যাল ইস্যু-২০২৬’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে যুক্তিভিত্তিক বিতর্ক শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ন্যায়বিচার, সংবিধান ও গণতন্ত্র বিষয়ে সচেতন নাগরিক গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে সমসাময়িক আইন ও বিচার সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের যুক্তি, বিশ্লেষণ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রথম রাউন্ডে দুইটি স্লটে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১২টি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় রাউন্ডে কোয়ার্টার ফাইনালে ৮টি দল এবং সেমিফাইনালে ৪টি দল অংশ নেয়।

ফাইনাল পর্বে ‘এই সংসদ মনে করে, সংসদ সদস্যদেরকে ফ্লোর ক্রসিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা-নিষেধ আরোপ করবে না’ প্রস্তাবনার ওপর চূড়ান্ত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইনাল বিতর্কে সরকারি দলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এবং বিরোধী দলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা অংশ নেন। সরকারি দলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাফরিন সুলতানা, মন্ত্রী হিসেবে মাহির লাবিব এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তামিম মাহমুদ অংশ নেন। বিরোধী দলে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ইমন হোসেন, উপ-নেতা হিসেবে ফাইদ হোসেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে খন্দকার রামীম হাসান অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন : কর্ণফুলি রক্ষায় দখলদারদের প্রতিহত করতে হবে: মনজিল মোরসেদ

বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাকিব আহমেদ, ফায়জুল ইসলাম, রায়হান হোসেন ও মাশরাফী ইসলাম। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিইউবিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ও চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম এবং সময় নিয়ন্ত্রক হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট অনামিকা আহমেদ।

বিতর্ক শেষে বিচারকদের রায়ে বিরোধী দলকে চ্যাম্পিয়ন এবং সরকারি দলকে রানার্স আপ ঘোষণা করা হয়। চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফিসহ ১২ হাজার টাকা এবং রানার্স আপ দলকে ট্রফিসহ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া, সেরা বিতার্কিক হিসেবে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাহাতুল জান্নাতকে এবং সেরা ভিডিওগ্রাফি হিসেবে এশিয়া প্যাসিফিক টিমকে ঘোষণা করা হয়। অংশগ্রহণকারী সকলকে সনদ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. ওয়াহিদুজ্জামান সিকদার মন্টু। অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

প্রথমবারের মতো আইন ও বিচারব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তরুণদের যুক্তিবাদী বিতর্কচর্চা জোরদার করতে হক ল’ একাডেমির উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর ফার্মগেটের আর এইচ হোম সেন্টারে এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হক ল’ একাডেমির পরিচালক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তারিকুল আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল আহাদ, মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোতাসিম বিল্লাহ, বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মিল্টন হোসেন, হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. আতীকুস সামাদ, ঢাকার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র সিভিল জজ রেজিস্ট্রার সাগির আহমেদ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক স্টাফ কলেজের ফ্যাকাল্টি সদস্য মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান, আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারুক হোসেন এবং বিটিআরসির সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অরূপ বড়াই।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *