শেখ হাসিনার ১০ বছর, টিউলিপ সিদ্দিকের ৪ বছর কারাদণ্ড


ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ বছর করে মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে শেখ হাসিনার ভাগ্নি শেখ রেহানার মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর মামলায় শেখ রেহানার আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিককে ৭ বছর এবং তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

অন্যান্য আসামিদের দণ্ড

দুটি মামলায় সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ মোট ১৪ জনকে ৫ বছর করে মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর করে মোট ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা

১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ১২ জন হলেন – গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি–৩) ফারিয়া সুলতানা, সাবেক পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি–২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম এবং সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ

জরিমানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।

রায় ঘোষণার সময় কারাগারে আটক থাকা একমাত্র আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

শেখ হাসিনাসহ অন্য সব আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দেন।

মামলার পটভূমি

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, তার দুই মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকআজমিনা সিদ্দিক এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে।

এর মধ্যে শেখ হাসিনা পরিবারের তিনটি মামলার বিচার শেষে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও একটি মামলার রায়ে সাজা হয়েছে।

গত বছরের ৩১ জুলাই আদালত এসব মামলায় শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

অভিযোগের সারসংক্ষেপ

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন, যা আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *