বাবা ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, ছেলে হলেন প্রতিমন্ত্রী


নেত্রকোনা-১ (সদর–দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর এই নিয়োগকে নেত্রকোনার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতা-কর্মী ও ভোটাররা।

১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কায়সার কামাল। তাঁর পিতা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর এবং মাতা বেগম যোবায়দা কামাল। পারিবারিকভাবেই জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি ধারার মধ্যেই তাঁর বেড়ে ওঠা।

কায়সার কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে ব্যারিস্টার অ্যাট ল ডিগ্রি লাভ করেন। আইন পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

১৯৮৮ সালে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ। ১৯৯৬ সালে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন এবং একই বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আরও পড়ুন : এজলাস থেকে মন্ত্রিসভা: দীপেন দেওয়ান হলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে কায়সার কামাল পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ছিল ৭০ হাজার ৮৫৫। এই জয় তাঁকে শুধু সংসদেই নয়, মন্ত্রিসভায়ও জায়গা করে দিয়েছে।

নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, কায়সার কামালের বার্ষিক আয় ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৩ টাকা। গাড়ি ও ফ্ল্যাট মিলিয়ে রয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৮০০ টাকার সম্পদ। তাঁর কাছে সোনার পরিমাণ ৩০ ভরি। তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯০ টাকা এবং সোনার পরিমাণ ৫০ ভরি।

শপথ গ্রহণের পর কায়সার কামাল বলেন, দল আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, এর প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। তাঁদের কাছে দেওয়া ওয়াদা যেন রাখতে পারি, সে জন্য সবার দোয়া চাই। আমি যেন সবসময় জনগণের সেবক হয়ে থাকতে পারি।

কায়সার কামালের পিতা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাবার কাছ থেকেই রাজনীতিতে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। নব্বইয়ের দশকে তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় চেয়ারম্যান। তাঁর দাদা ও নানাও জনপ্রতিনিধি ছিলেন।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কায়সার কামালের দায়িত্ব গ্রহণ নেত্রকোনা অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। স্থানীয়দের আশা, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *