জালিয়াতি রোধে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ৫ দফা নির্দেশনা: কার্যকর ১৪ জুন থেকে


কোর্ট রিপোর্টার, ঢাকা | আদালতে নোটিশ জালিয়াতি রোধ, বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অসাধু চক্রের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে ৫টি কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার কার্যালয় ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস’।

গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ অফিস আদেশ ও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে মামলার নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতির কিছু ত্রুটি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কতিপয় ক্লার্ক কর্তৃক অত্র অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশপূর্বক নোটিশ জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে একটি গুরুতর গড়মিলের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার অবকাশকালীন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর কোর্টে বেশ কয়েকটি মামলার এফিডেভিটকৃত মূল আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে প্রদত্ত টেন্ডার নম্বরের স্পষ্ট অসঙ্গতি ও গড়মিল ধরা পড়ে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আদালতের দৃষ্টিগোচরে নেওয়ার পর, ওই কোর্টে তালিকাভুক্ত অন্যান্য আরও অনেক মামলার ক্ষেত্রেও একই জালিয়াতির অবয়ব পরিলক্ষিত হয়।

কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বা কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের জন্য একটি চক্র এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে। এ অবস্থায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কড়াকড়ি আরোপ করে কার্যতালিকার ২৯, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪৩, ৪৪, ৪৯, ৫৩, ৫৮, ৬০, ৬১, ৮৩, ১১১, ১১২, ১৮০ এবং ১৮৪ নম্বর আইটেমগুলো ডিলিট (বাতিল) করেন।

এ ছাড়াও দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলায় শনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরিত আইনজীবীদের নামের মধ্যেও বৈপরীত্য লক্ষ্য করা গেছে, যার ফলে কোনো মামলায় নিয়োজিত প্রকৃত আইনজীবীকে শনাক্ত করা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়ে। কতিপয় ব্যক্তির এহেন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সামগ্রিক আইনজীবী সমাজ ও দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সকলকে অহেতুক বিব্রত ও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

বিচারিক স্বচ্ছতার স্বার্থে গৃহীত ৫টি বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত

এই প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও জালিয়াতি রুখতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস নিম্নলিখিত ৫টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা আগামী ১৪ জুন, ২০২৬ তারিখ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে:

১. আইনজীবীর সমতা: মূল পিটিশনে শনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরিত আইনজীবী—উভয় ক্ষেত্রেই একই আইনজীবী হতে হবে।

২. নির্দিষ্ট সময়সীমা: কোনো মামলার এফিডেভিট সম্পন্ন করার পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে নোটিশ জারি করতে হবে।

৩. টেন্ডার নম্বর টাইপকরণ: অত্র অফিসে জমাকৃত নোটিশে টেন্ডার নম্বর কোনো অবস্থাতেই হাতে লেখা যাবে না, তা অবশ্যই টাইপকৃত হতে হবে।

৪. নথির অনুলিপি সংযুক্তি: এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পর মূল আবেদনপত্রের ফটোকপি এবং ওকালতনামার উভয় পৃষ্ঠার কপি সহ অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে নোটিশ জমা দিতে হবে।

৫. পূর্ববর্তী নোটিশ প্রদর্শন: কোনো আদালতে পূর্বে দাখিলকৃত একই মামলা অন্য কোনো আদালতে নতুন করে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে, অত্র অফিসে নতুন নোটিশ প্রদানের সময় পূর্ববর্তী আদালতে দাখিলকৃত মামলার নোটিশের একটি অনুলিপি (কপি) আবশ্যিকভাবে সংযুক্ত করতে হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের পবিত্রতা ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় এই নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালনে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *