মাদক মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী | সারা দেশে মাদক মামলার জট কমাতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং জুয়া ও কিশোর অপরাধ দমনে বিদ্যমান আইন সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
গতকাল রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সরকারের এসব আইনি পরিকল্পনার কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে বহু মাদক মামলা বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থায় বড় জট তৈরি করছে। এসব মাদক মামলার দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এর পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনকেও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আরও কঠোর করতে এতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বিদ্যমান জুয়া আইন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের পুরোনো জুয়া আইন দিয়ে বর্তমান সময়ের অনলাইন-নির্ভর ও আধুনিক পদ্ধতির ডিজিটাল জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আইনটি দুর্বল হওয়ায় এই অপরাধ চক্রকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। এই আইনি দুর্বলতা দূর করতে আগামী সংসদ অধিবেশনেই নতুন আইন প্রণয়ন অথবা বিদ্যমান আইনে শক্তিশালী সংশোধনী আনার চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুন : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
কিশোর গ্যাং বা কিশোর অপরাধীদের দমনেও আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনের ফাঁকফোকর ও সুযোগ নিয়ে অনেক কিশোর সহজে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পরবর্তীতে তারা ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। তাই সমাজকে এই ব্যাধি থেকে মুক্ত করতে কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত আইন সংস্কার করা হবে।
পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জঙ্গল সলিমপুর আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এলাকা বা অভয়ারণ্য হিসেবে থাকবে না। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই এলাকায় সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, জঙ্গল সলিমপুরের আশপাশে বেতুয়া ও চা-বাগান নামে দুটি পাহাড়ি এলাকা রয়েছে, যেখানে সন্ত্রাসীদের আনাগোনার সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। ফলে শুধু জঙ্গল সলিমপুরই নয়, আশপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলো থেকেও সব সন্ত্রাসীকে উচ্ছেদ করা হবে। সারা দেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্মূল করা হবে।
জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেন, আইজিপি আলী হোসেন ফকিরসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Source link
tags]
Leave a Reply