প্রাণী অধিকার রক্ষায় লিগ্যাল নোটিশ, ব্যবস্থা না নিলে রিট
জনস্বার্থে প্রাণী অধিকার রক্ষায় লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। রবিবার (১২ এপ্রিল ২০২৬) ডাকযোগে ও ইমেইলের মাধ্যমে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশটি প্রেরণ করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আমদানি-রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে।
নোটিশে বলা হয়েছে, বাগেরহাটে কুকুর হত্যা ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আগামী ৩ দিনের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে নোটিশে উল্লেখিত ২১টি সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দেশে প্রাণীর ওপর নির্যাতন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগলসহ গৃহপালিত প্রাণী নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীও হত্যার শিকার হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল ‘ভালো ফল বয়ে আনবে না’: মাসদার হোসেন
নোটিশে বলা হয়, সমাজে এখনও প্রাণীকে ‘বস্তু’ হিসেবে দেখা হয়, যা এই নির্যাতনকে উৎসাহিত করছে। শিশুদের মধ্যে সহানুভূতির শিক্ষা না থাকলে ভবিষ্যতে সহিংস প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিশে বাগেরহাটের খানজাহান আলীর মাজার এলাকায় সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়, যেখানে একটি জীবন্ত কুকুরকে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
আইনজীবীর দাবি, এটি পরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর কাজ এবং প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কুমিরকে জীবন্ত প্রাণী খাওয়ানোর একটি অমানবিক প্রথা চলে আসছে, যা বন্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
নোটিশে প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ এর ধারা ৬ ও ৭ অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা ও যন্ত্রণাদায়ক হত্যাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ আইনে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়া দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪২৯ ধারায় গৃহপালিত প্রাণী হত্যা বা পঙ্গু করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ ও ৩২ অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে প্রাণী সুরক্ষায় ২১টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- প্রাণিকল্যাণ আইন সংশোধন করে শাস্তি বাড়ানো
- প্রাণী নির্যাতনকে কগনাইজেবল অপরাধ ঘোষণা
- প্রতিটি উপজেলায় প্রাণী হাসপাতাল ও মোবাইল ভেট ইউনিট স্থাপন
- জাতীয় Animal Welfare Authority গঠন
- প্রাণী পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন
- পোষাপ্রাণীর ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও মাইক্রোচিপ ব্যবস্থা
- ২৪/৭ হটলাইন ও রেসকিউ টিম চালু
- স্কুল-কলেজে প্রাণী কল্যাণ শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি
- পেট শপ ও সেল্টার হোমে লাইসেন্স ও সিসিটিভি বাধ্যতামূলক
এছাড়া পোষাপ্রাণী বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রে কর ও ফি প্রত্যাহার, প্রাণীর জন্য কবরস্থান, বিনামূল্যে টিকাদান এবং স্পে-নিউটার কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার বলেন, প্রাণী সুরক্ষা শুধু মানবিকতার বিষয় নয়, এটি পরিবেশ রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হবে।
Source link
tags]
Leave a Reply