মানবাধিকার কমিশনের নিয়োগ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেওয়া নিয়োগ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশেক-ই-রসুল এ রিটটি দায়ের করেন।

রিটে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

ওই অধ্যাদেশের ৬ ধারায় কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ, মেয়াদ এবং পদত্যাগ সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া ৭ ধারায় চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে একটি বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

পরবর্তীতে অধ্যাদেশের ৬(১) ধারার অধীনে কমিশনের চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রিটে অধ্যাদেশের ৬ ও ৭ ধারা এবং ৫ ফেব্রুয়ারির নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

আইনজীবী আশেক-ই-রসুল জানান, ২০০৭ সালে প্রথম জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি হয়, যা ২০০৯ সালে আইনে পরিণত হয়। ওই আইনে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৭২ বছর নির্ধারণ করা হয়, যেখানে আগে তা ছিল ৭০ বছর।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা নতুন অধ্যাদেশে বয়সসীমার বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় পছন্দসই ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে রিটে দাবি করা হয়।

এছাড়া নির্বাচন কমিশন, তথ্য কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারণ করা থাকলেও এখানে তা নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।

রিটে আরও বলা হয়, অধ্যাদেশের ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সদস্য হিসেবে রয়েছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে কমিশনের ভূমিকা থাকায়, এ ধরনের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ পেলে কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা ও নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *