বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পিউপিলেজ (ইন্টিমেশন) ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া
রাকিব হাসান জিসান : বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে হলে প্রথমেই পিউপিলেজ ফরম, অর্থাৎ কোনো সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে শিক্ষানবিশকাল শুরু করার চুক্তিপত্র সম্পন্ন করতে হয়। আইনাঙ্গনে এটি সাধারণত বার কাউন্সিল ইন্টিমেশন ফরম নামে পরিচিত।
এই ইন্টিমেশন ফরম পূরণের প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। তবে ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করলে একজন প্রার্থী নিজেই এটি নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে পারেন।
আগে বার কাউন্সিল থেকে সরাসরি ফরম সংগ্রহ করে হাতে লিখে পূরণ করতে হতো এবং পুরো প্রক্রিয়াই ছিল ম্যানুয়াল। তবে ২০২৩ সাল থেকে ইন্টিমেশন ফরম পূরণের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনলাইনে ফরম পূরণের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রিন্ট করে পরে বার কাউন্সিলে স্বশরীরে বা ডাকযোগে জমা দিতে হয়।
অনলাইনে ইন্টিমেশন ফরম পূরণের ধাপ
বর্তমানে বার কাউন্সিলের নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে ফরম পূরণ করতে হয়। এজন্য প্রথমে ব্রাউজার থেকে নিচের লিংকে প্রবেশ করতে হবে—
http://bar.teletalk.com.bd/lower-court/registration/
লিংকে প্রবেশ করার পর Lower Court Registration অপশনে গিয়ে ফরমের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য ইনপুট করতে হবে।
ফরম পূরণের সময় প্রার্থীর কাছে নিম্নলিখিত তথ্য ও কাগজপত্র থাকা প্রয়োজন—
-
এসএসসি সনদ
-
এইচএসসি সনদ
-
স্নাতক সনদ
-
স্নাতকোত্তর সনদ (যদি থাকে)
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
অনলাইনে ফরম পূরণের সময় আরও যে তথ্যগুলো লাগবে—
-
বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবীর নাম
-
তিনি কোন বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য
-
সিনিয়র আইনজীবীর বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্তির তারিখ
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর নির্ধারিত সাইজ ও মেগাপিক্সেল অনুযায়ী সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি এবং প্রার্থীর স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে।
ফাইনাল সাবমিট করার আগে অবশ্যই সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। কারণ কোনো তথ্য ভুল হলে পরে সংশোধন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হয়ে যায়।
ফাইনাল সাবমিট করার মাধ্যমে অনলাইন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
প্রিন্ট ও স্ট্যাম্প সংক্রান্ত কাজ
অনলাইন প্রক্রিয়া শেষ হলে পূরণকৃত ফরমের PDF ফাইল ডাউনলোড করতে হবে।
এরপর—
ফরমের এফিডেভিট অংশটি স্ট্যাম্পে প্রিন্ট করতে হবে এবং বাকি অংশ কার্টিজ পেপারে কালার প্রিন্ট করতে হবে।
এরপর স্ট্যাম্পগুলো নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নোটারি করাতে হবে।
ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে প্রার্থী ও সিনিয়র আইনজীবীর স্বাক্ষর দিতে হবে। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে—সব জায়গায় তারিখ যেন একই থাকে।
শিক্ষাগত সনদের সত্যায়ন
ফরমের শেষ পাতায় উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সব ডকুমেন্টের এক সেট ফটোকপি করতে হবে।
প্রতিটি কপি—
-
১০ বছর বা তার বেশি প্র্যাকটিসিং সিনিয়র আইনজীবী দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে
-
অবশ্যই ইন্টিমেশন ফরমে উল্লেখিত সিনিয়র আইনজীবীই স্বাক্ষর করবেন
এক্ষেত্রেও তারিখ যেন ফরমের তারিখের সঙ্গে মিল থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তারিখে গড়মিল হলে বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ অনেক সময় কাগজপত্র গ্রহণে জটিলতা তৈরি করে।
চূড়ান্ত জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া
সব কাগজপত্র প্রস্তুত হলে—
১. প্রিন্টকৃত ফরম
২. শিক্ষাগত সনদের সত্যায়িত কপি
৩. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
এসব একত্রে করে এক সেট ফটোকপি করতে হবে।
এরপর বার কাউন্সিল অফিসে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করিয়ে মূল কপিগুলো জমা দিতে হবে এবং ফটোকপির সেটে রিসিভ সিল নিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
চাইলে কাগজপত্র ডাকযোগেও পাঠানো যায়, তবে স্বশরীরে জমা দেওয়াই তুলনামূলক নিরাপদ।
রিসিভ করা কপিটি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে, কারণ পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় এটি প্রয়োজন হবে।
এইভাবেই সম্পন্ন হয় বার কাউন্সিল পিউপিলেজ রেজিস্ট্রেশন বা ইন্টিমেশন জমা প্রক্রিয়া।
Source link
tags]
Leave a Reply