সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নৈশকালীন অথবা বি-গ্রেড পোস্ট অফিস স্থাপনের দাবি


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিদ্যমান সাব-পোস্ট অফিসের পাশাপাশি নৈশকালীন ডাকসেবা চালু কিংবা জেলা শহরের ন্যায় ‘বি-গ্রেড’ পোস্ট অফিস স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ ও গুরুত্বপূর্ণ পত্রাদি সময়মতো প্রেরণে বিদ্যমান ডাকসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করতেই এই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এডভোকেট-অন-রেকর্ড এস এম আরিফ মন্ডল।

আবেদনে বলা হয়, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে থাকা সাব-পোস্ট অফিসটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সর্বোচ্চ দুপুর ২টা পর্যন্ত ডাক গ্রহণ করে। জনবল সংকট এবং সান্ধ্যকালীন কার্যক্রম না থাকায় হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের আদেশসহ জরুরি পত্রাদি প্রেরণে মারাত্মক বিলম্ব হচ্ছে।

এস এম আরিফ মন্ডল উল্লেখ করেন, ফৌজদারি মামলায় জামিনপ্রাপ্ত হাজতী আসামিদের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ দ্রুত প্রেরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় আদেশ স্বাক্ষরিত হলেও দুপুর ২টার মধ্যে ডাক দাখিল করা সম্ভব না হওয়ায় একদিন বিলম্ব ঘটে। আবার বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর ডাক গ্রহণ না করায় আদেশ প্রেরণ আরও তিন দিন পিছিয়ে যায়। এর ফলে জামিনপ্রাপ্ত হয়েও হাজতী আসামিদের কারাবাস দীর্ঘায়িত হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, প্রতি মাসে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ থেকে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি চিঠিপত্র বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে প্রেরণ করা হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিপুল কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে বিদ্যমান জনবল চরম চাপের মুখে পড়ে। এছাড়া সাব-পোস্ট অফিসটিতে কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধাও নেই।

যদিও জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের নিকটে অবস্থিত, বাস্তবে আদালতের চিঠিপত্র প্রেরণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সাব-পোস্ট অফিসের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এস এম আরিফ মন্ডল বলেন, সুপ্রিম কোর্টে চিঠিপত্র আদান-প্রদানের পরিমাণ ও গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা শহরের ন্যায় একটি বি-গ্রেড পোস্ট অফিস অথবা সান্ধ্যকালীন ডাকসেবা চালু করা এখন সময়ের দাবি। এতে আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ কার্যকর ডাকসেবা পাবে।

আবেদনের অনুলিপি অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব, রেজিস্ট্রার জেনারেল, হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।



Source link

tags]

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *